রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :গাজায় ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতি যেন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতির মাঝেও ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষের ওপর অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা। সর্বশেষ এই হামলায় আরও অন্তত ৪৫ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে পাঁচ বন্দিকে মুক্তি দিলেও ইসরায়েল আবারও রক্তাক্ত করেছে গাজার রাস্তাঘাট। মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-আকসা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এখনো হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে অভিযোগ ছাড়াই আটক করে রেখেছে ইসরায়েল। অনেককে তথাকথিত প্রশাসনিক আদেশে দীর্ঘদিন ধরে বন্দিশালায় রাখা হয়েছে, যেখানে নেই কোনো বিচার বা অধিকার।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) সহায়তায় ইসরায়েল ৪৫টি মরদেহ ফেরত দিয়েছে। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির আওতায় ফিরে আসা মরদেহের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭০–এ। এর মধ্যে ৭৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, বাকিদের ডিএনএ পরীক্ষা ও বৈধ চিকিৎসা প্রটোকল সম্পন্নের পর হস্তান্তর করা হবে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক মরদেহেই স্পষ্ট নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে—হাত বাঁধা, চোখ ঢেকে রাখা এবং মুখ বিকৃত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ অবহেলার প্রমাণ হিসেবে মরদেহগুলোর কোনো শনাক্তকরণ ট্যাগও দেওয়া হয়নি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ গাজার রাফাহ অঞ্চলের উত্তরে আক্রমণে তিন জন নিহত হয়েছেন। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, কিছু ব্যক্তি তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” অতিক্রম করায় তাদের টার্গেট করা হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি গুলিতে এক শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-আহলি আরব হাসপাতালের একটি সূত্র।
আল জাজিরা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনগুলোতে ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হচ্ছে। গাজার প্রশাসন এটিকে যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে।
সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল কমপক্ষে ১২৫ বার যুদ্ধবিরতি ভাঙার ঘটনা ঘটিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই ধারাবাহিক হামলা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ফিরতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম