রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিবন্ধিত দলগুলো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বাধ্যতামূলক বিধান রেখেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ২০২৫ (আরপিও) সংশোধন করা হয়েছে।
সোমবার (৪ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় এ সংশোধিত আরপিও অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচনী আইনে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়ার পর, বিভিন্ন দলের মতামত ও আপত্তি বিবেচনা করে চূড়ান্ত রূপ প্রদান করা হয়েছে।
আরপিও সংশোধনের মূল ধারাটি হলো, নির্বাচনে একাধিক নিবন্ধিত দল জোট করলেও জোট মনোনীত প্রার্থী বড় দলের বা অন্য দলের প্রতীকে ভোট করতে পারবে না, নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে। বিএনপি কিছু অনুচ্ছেদে আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি সংশোধন বহাল রাখার দাবি জানিয়েছিল।
এছাড়া আরপিও-এ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো অনুচ্ছেদ ২০-এর সংশোধন, যা জোটবদ্ধ দলের একক প্রতীক বরাদ্দের সুযোগ আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, যদি দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যৌথ প্রার্থী দেয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন আবেদন সাপেক্ষে সেই প্রার্থী যে দলের অন্তর্ভুক্ত, সেই দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক জোটবদ্ধভাবে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারবে। এই আবেদন তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে ইসির কাছে করতে হবে।
আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারির মধ্যেই নির্বাচনী আইনের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ভোটার তালিকা আইন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ও সাংবাদিক নীতিমালা—সবই হালনাগাদ করা হয়েছে। এই সংশোধনের আলোকে নির্বাচন কমিশন দ্রুত দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালাও জারি করবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম