রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের মোট ১২টি প্যাকেজের মধ্যে দুটি প্যাকেজের নির্মাণকাজের জন্য নিযুক্ত ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পরিকল্পনা করছে সরকার।
ডিএমটিসিএল কর্তৃক জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের জানানো হয়েছে, ডিপিপিতে বরাদ্দকৃত খরচের তুলনায় বেশি দর দাবি করার কারণে এই দুই চুক্তি বাতিল করা যেতে পারে।
বাতিল করতে চাওয়া প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিপি-২: ডিপোর অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণ, ঠিকাদার চীনের সিনোহাইড্রো।
সিপি-৫: টানেল ও স্টেশন নির্মাণ (নর্দা থেকে নতুন বাজার স্টেশন), ঠিকাদার জাপানের কাজিমা করপোরেশন।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুখ আহামেদ জানিয়েছেন, চিঠি পাঠানো হয়েছে নেগোশিয়েশনের সুযোগ তৈরির জন্য। ব্যয় কমানো সম্ভব হলে ঠিকাদার কাজ করবে; তা না হলে পুনঃদরপত্রের (রি-টেন্ডারিং) পথে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন, চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং ব্যয় কমানোর প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার।
মেট্রোরেল লাইন-১ কাঞ্চন সেতু থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ৩১.২৪ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১৯.৮৭ কিমি মাটির নিচে এবং ১১.৩৭ কিমি উড়ালপথে যাবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২,৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে জাইকা দেবে ৩৯,৪৫০ কোটি ৩২ লাখ এবং সরকার দেবে ১৩,১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাতাল মেট্রোরেলের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূলত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডিপো তৈরির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই কাজের সূচনা হয়েছিল। কথা ছিল, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। এরপর যাত্রী নিয়ে কাঞ্চন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ছুটবে এই মেট্রো ট্রেন। কিন্তু বাস্তবে গত এক বছরে মেট্রোরেল নির্মাণকাজে কোনো অগ্রগতি নেই। এখনো সব কাজের চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি সরকার। এরই মধ্যে নতুন করে দর কষাকষি করতে দিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে চাচ্ছে সরকার। আর সরকারি নথিতেও স্বীকার করা হয়েছে যে, কাজ সংকুচিত হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে