রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট পেপার তৈরিতে ব্যবহারের জন্য প্রায় ৯১৫ মেট্রিক টন কাগজ সরবরাহের অর্ডার পেয়েছে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনাস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রায় ১১.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রঙিন কাগজ সরবরাহের অর্ডার দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭৮ দশমিক ৯ মেট্রিক টন কাগজ ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ৭৩৬ মেট্রিক টন কাগজ ধাপে ধাপে উৎপাদন শেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ইসি থেকে সবুজ, গোলাপি, এজুর লেইড এবং বাদামী সালফেট মিলিয়ে মোট ৯১৪ দশমিক ৯ মেট্রিক টন কাগজের অর্ডার পাওয়া গেছে। কাগজ সরবরাহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্ডারকৃত সব কাগজ সরবরাহ সম্পন্ন হবে।’
তিনি আরো জানান, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কেপিএমের কাগজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০০ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১০৯৩ মেট্রিক টন। বর্তমানে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ স্টেশনারি অফিস (বিএসও), বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট প্রায় ২ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন কাগজ সরবরাহের অর্ডার পাওয়া গেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৭.৩৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৯২৩ মেট্রিক টন কাগজ বিক্রি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে ৬৮ একর কারখানা এলাকা ও ৪৩১ একর আবাসিক এলাকা নিয়ে উপমহাদেশের বৃহত্তম কাগজ কল হিসেবে যাত্রা শুরু করে কর্ণফুলী পেপার মিলস। ৭০ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটি বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও কাগজ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ পেলে কেপিএম আবারো তার পুরোনো জৌলুস ফিরে পাবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে