| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাজসাক্ষী আবজালুলের জেরা ঘিরে ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২০, ২০২৫ ইং | ১১:১১:৩১:পূর্বাহ্ন  |  ১২২৩২৬০ বার পঠিত
রাজসাক্ষী আবজালুলের জেরা ঘিরে ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলায় রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হকের জেরা ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-২–এ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীদের তর্কাতর্কিতে আদালতের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অন্য সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী আবজালুলের জেরা সকাল সাড়ে ১০টার পর শুরু হয়। জেরার একপর্যায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান জানতে চান, গত বছরের ৫ আগস্ট থানার কোনো পুলিশ সদস্য মারা গেছেন কি না। উত্তরে আবজালুল বলেন, “না, তবে অন্য ইউনিটের একজন মারা গেছেন, যার তদন্তে ছিলাম আমি; কিন্তু শেষ করতে পারিনি।” এতে প্রসিকিউশন আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এর আগের দিন (বুধবার) ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে আবজালুল সাক্ষ্য দেন। রাজসাক্ষী হিসেবে পুরো সত্য উন্মোচনের কথা থাকলেও তার জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য না আসায় আদালতকক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যদিও প্রসিকিউশন দাবি করে, সাক্ষী তার জানা সব তথ্যই দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সাক্ষ্য মঞ্চে ওঠে আবজালুল প্রায় ৫০ মিনিটে জবানবন্দি শেষ করেন। তিনি জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি নিজে লাশ পোড়ানোর দৃশ্য দেখেননি; ১৫ আগস্ট থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়ে অন্যদের কাছে শুনেছেন যে ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ লাশ পোড়ান।

চলতি বছরের ২১ আগস্ট ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সে সময় হাজির আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেন। পরে তার দোষ স্বীকারোক্তির অংশটি রেকর্ড করা হয় এবং তাকে রাজসাক্ষীর মর্যাদা দেওয়া হয়।

এর আগে সাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য তারিখ হলেও ১২ ও ১৮ নভেম্বর বিশেষ কারণে সাক্ষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে প্রত্যক্ষদর্শী সজিব আদালতে বেদনাদায়ক বিবরণ দেন। তিনি জানান, তার বন্ধু সাজ্জাদ হোসেন সজলকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে পুলিশ।

৩০ অক্টোবর সাক্ষ্য দেন গুলিবিদ্ধ ভুক্তভোগী সানি মৃধা। এর আগে ২৯ অক্টোবর জব্দতালিকার সাক্ষী হিসেবে এসআই আশরাফুল হাসান জানান, তিনি চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাইফেলের ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে থানায় জমা দেন।

১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা খলিলুর রহমান। প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্যে গত বছরের ৫ আগস্টের নির্মমতার বিবরণ আদালতে তুলে ধরেন।

গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। অভিযোগপত্রে ৩১৩ পৃষ্ঠা তথ্য, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুইটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়। পরে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় গ্রেপ্তার আটজন হলেন,ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনও পলাতক।

গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। পরে তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একজন তখনো জীবিত ছিলেন; তাকেও পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই নৃশংস ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪