| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে: আখতার

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২০, ২০২৫ ইং | ১৬:২৪:১৬:অপরাহ্ন  |  ১২২৩৬৬১ বার পঠিত
জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে: আখতার
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার  হোসেন বলেছেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী নয়, জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে উল্লেখ করে বলেন,আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে জানিয়েছি, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো করে নয়, বরং জুলাই সনদে যেভাবে বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এ দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়(২০নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত  উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অভাব রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্ভাবন এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবে এ দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে উচ্চ আদালতের রায়কে স্বাগত জানান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আদেশ জারি করা হয়েছে। জুলাই সনদের খসড়া আমাদের কাছে এসেছে। এই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে- এর একটা ফর্মুলার বিষয়ে সনদে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। 

আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীতে শুধুমাত্র বিচার বিভাগ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার যে বিধান ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বিচার বিভাগের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সরকারি দল, প্রধান বিরোধী দল এবং তৃতীয় বৃহত্তম দলের সমন্বয়ে প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের ফর্মুলা সনদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে ‘র‌্যাংকড চয়েস ভোটিং’র কথা বলা হলেও সেখানে বিএনপি ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ দিয়েছে। 

আখতার আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিচার বিভাগের ওপর নির্ভরশীল করার কারণে এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা ধরনের সংকট ঘনীভূত হয়েছিল। ২০০১ সালে যখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলো, নিজেদের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তৈরি করার জন্য তারা বিচারপতিদের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক-এগারোর মতো ঘটনা ঘটেছিলো।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে আখতার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং এর আইনি ভিত্তিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই আমরা জুলাই সনদের স্বাক্ষর থেকে বিরত রয়েছি। কেননা, জুলাই সনদের আদেশের মধ্যে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায়টা আসার পর এই প্রশ্ন আবারও এসেছে যে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো করে হবে নাকি জুলাই সনদে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে হবে। এই অস্পষ্টতাও সরকারের তরফ থেকে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, বিএনপি ত্রয়োদশ সংশোধনীতে ফিরে যেতে চাইছে। সে জায়গায় জুলাই সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করাই এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। জুলাই সনদের অস্পষ্ট দূর করা এবং সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলে আমরা সনদে স্বাক্ষর করবো।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪