রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় কৃষিজমির তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তাঁর দাবি, হলফনামায় ৫ দশমিক ২ একর দেখালেও দুদকের অনুসন্ধানে ২৯ একর কৃষিজমির তথ্য মিলেছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে দুদকের বিভাগীয় কার্যালয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “দুদক বিষয়টি নিয়ে কাজ করলেও মনোনয়ন বাতিলের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে পারেনি। দুদকের কাজের ওপর কোনও চাপ নেই, তবে নানা সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক সময় আমাদের সহকর্মীরাই দুর্নীতির তথ্য চাপা দেয়, গণমাধ্যম তা করে না।” তিনি আরও বলেন, যে দলেরই হোক, দেশের জন্য সৎ মানুষকেই নির্বাচিত করতে হবে।
হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রার্থীরা দেশি-বিদেশি আয়ের হিসেব দেন। কেউ গোপন করলে তা খুঁজে বের করে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।”
দুদক বিচারকারী প্রতিষ্ঠান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশনের দায়িত্ব তদন্ত করে তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা, আর বিচারকাজ আদালতের।
এর আগে রবিবার সকালে থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেটের রিকাবিবাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে দুদকের উদ্যোগে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত এ শুনানিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সেবামান উন্নয়ন, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি রোধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম।
শুনানিতে বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করা হলে তা নিয়ে আলোচনা হয় এবং বহু অভিযোগের সুরাহা করা হয়।