রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ এবং বন্দর সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারের, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যাদের কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, এমন অন্তর্বর্তী সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।
সোমবার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তারেক রহমান এলডিসি উত্তরণ–সংক্রান্ত পরিস্থিতি ও চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত মতামত জানান।
তারেক রহমান লিখেছেন, এলডিসি সুবিধা হারালে পোশাক শিল্পসহ নানাখাতের উদ্যোক্তারা যে চাপে পড়বেন, তা সরকারের বক্তব্যের বাইরেও বাস্তব জীবনে বড় সংকট তৈরি করবে। তিনি গাজীপুরের এক ক্ষুদ্র পোশাক কারখানার মালিক এবং নারায়ণগঞ্জের এক শ্রমিক পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এলডিসি সুবিধা হারানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে, অথচ এ সিদ্ধান্তে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তীর্ণ হওয়ার সময় নির্ধারণ এবং সময় বাড়ানোর বিকল্প খোলা না রাখা একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা একটি অনির্বাচিত সরকারের নেওয়ার কথা নয়। অথচ অন্য দেশগুলো যেমন, অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়া অর্থনৈতিক ধাক্কার সময় তাদের উত্তরণে সময় সংশোধন করেছে। জাতিসংঘের নিয়মও এ ক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর সুযোগ দেয়। তারেক রহমানের মতে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্তে সময় চাওয়া ও আলোচনার সুযোগ রাখা দায়িত্বশীলতার লক্ষণ।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার প্রকাশ্যেই বিকল্পসমূহ বন্ধ করে দিচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। সরকার নিজস্ব নথিতেই স্বীকার করেছে যে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকখাতের চাপ, ডলারের সংকট, ঋণঝুঁকি এবং রপ্তানি মন্থরতার মুখে পড়েছেন এ অবস্থায় এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কেও তারেক রহমান বলেন, বন্দর দেশের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার, এবং এ সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি কোনোভাবেই রুটিন কাজ নয়। এটি কৌশলগত অঙ্গীকার, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে। তাই এসব সিদ্ধান্তও নির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত।
তিনি লেখেন, কেউ বলছে না যে আমাদের এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হওয়া উচিত নয় বা বন্দর সংস্কার করা উচিত নয়। যুক্তিটা খুবই সহজ দেশের ভবিষ্যৎ এমন সরকারের হাতে থাকা উচিত নয়, যাকে জনগণ নির্বাচিত করেনি।
গণতান্ত্রিক বৈধতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কৌশলগত ধৈর্য কোনো দুর্বলতা নয়, জনপরামর্শ কোনো ঝামেলা নয়, আর বৈধতা কোনো বিলম্ব নয়। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনোই নিষ্ক্রিয় ছিল না। তাই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন এ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের মত প্রকাশের ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আবার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি