রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: জাতীয় দলের দল নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। আয়ারল্যান্ড সিরিজের টি–টোয়েন্টি স্কোয়াডে শামীম হোসেনকে অন্তর্ভুক্ত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্করণটির অধিনায়ক লিটন দাস। চট্টগ্রামে আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দল বাছাইয়ের সময়ে তাঁর বা প্রধান কোচের মতামত নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগের ইঙ্গিত ছিল জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনের দিকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে প্রধান নির্বাচক বলেন, দল বাছাইয়ে বোর্ডের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে এবং সব সময়ই অধিনায়ক ও কোচের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সিলেক্টরস রুমে অধিনায়ককে ডেকে দল নিয়ে আলাপও করা হয়। তিনি জানান, আলোচনা সংক্ষিপ্ত হলেও সেখানে ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে কথা হয় এবং সেই প্রসঙ্গে শামীম হোসেনের নামও আসে। অধিনায়ক স্পষ্টভাবে তাঁকে দলে রাখতে চান বলেও জানান লিটন।
তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো না থাকায় শামীমকে নেওয়া হয়নি বলে জানান প্রধান নির্বাচক। শেষ তিন টি–টোয়েন্টিতে তাঁর রান ছিল ০, ১ ও ১। গাজী আশরাফ বলেন, অধিনায়কের অভিপ্রায় বুঝেছি। তিনি জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মতো ব্যাটিং লাইনআপ রাখতে চান। কোচও একই ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
লিটনের অভিযোগের বিপরীতে প্রধান নির্বাচক বলেন, পঞ্চম দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে কোচ ফিল সিমন্সের সঙ্গেও আলাপ হয়। কোচ দল পরিবর্তনের পক্ষপাতী ছিলেন না, তবে শামীমকে নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি।
দল নির্বাচনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের, এমন মত ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন ও প্রধান নির্বাচকেরও। গাজী আশরাফ বলেন, আমরা কী বার্তা দিতে চাই এবং সিরিজে কীভাবে দলকে কাজে লাগাতে চাই, তা ভেবেই নির্বাচন করা হয়েছে। অধিনায়ক কোচকে জানিয়ে দিয়েছিলাম, দুই ম্যাচের দল দেব। সিরিজ নিশ্চিত হলে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কারও অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই; কারণ তাঁদের মতামত আমরা নিয়েছি। অধিনায়ক কোচ যা বলবে, তা যদি সরাসরি মেনে নিতে হয়, তাহলে আমাদের থাকার দরকার কী?
দল ঘোষণার পর লিটন অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে ফোন করেছিলেন বলেও জানান প্রধান নির্বাচক। তিনি নাকি অধিনায়ককে বলেন, ঘোষিত দল নিয়েই খেলতে হবে। পরে শামীমকেও ফোন করে জানানো হয় যে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের, যাতে অধিনায়কের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
মিডল অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান না থাকার অভিযোগের ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক বলেন, সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় শামীম একাদশে থাকতেন না। তাই স্কোয়াডে থাকা না থাকা বিশেষ পার্থক্য তৈরি করছে না। তিনি যোগ করেন, শুধু বাঁহাতি হলেই হবে না, জায়গা পাওয়াটা জাস্টিফাই করতে হবে।