| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাশিয়াবান্ধব চুক্তি না হলে যুদ্ধ চলবে: হুঁশিয়ারি পুতিনের

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৬, ২০২৫ ইং | ২১:১৯:২৭:অপরাহ্ন  |  ৯৭৪২৩৯ বার পঠিত
রাশিয়াবান্ধব চুক্তি না হলে যুদ্ধ চলবে: হুঁশিয়ারি পুতিনের

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব সংশোধিত প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্রেমলিন বরং চাইছে ট্রাম্পের মূল পরিকল্পনাকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ধরে এগোতে যা মস্কোর দুইভাবে লাভজনক। প্রথমত, এতে ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল অবস্থানে রাখা সম্ভব হবে; দ্বিতীয়ত, প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে ট্রাম্প ইউক্রেন থেকে সমর্থন সরিয়ে নিতে পারেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়াবে।

গত শুক্রবার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে পুতিন বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলি গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত আলোচনা সাপেক্ষে শান্তিচুক্তির ভিত্তি হতে পারে। নতুবা রাশিয়া সামরিক শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এভাবে চললে আরও ইউক্রেনীয় শহর রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যাবে, এটা ধীরগতির হলেও অনিবার্য। মস্কো প্রয়োজনে সশস্ত্র উপায়ে নিজেদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।

কার্নেগি রাশিয়া-ইউরেশিয়া সেন্টারের পরিচালক আলেক্সান্দার গাবুয়েভ বলেন, পশ্চিম এখন পুতিনের সঙ্গে সহ্যশক্তির প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। পুতিন ও তার রাষ্ট্রীয় কাঠামো এ ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত কঠিন’। ইউক্রেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলেও মানবসম্পদ, অস্ত্র ও অর্থের ঘাটতি তাদের অবস্থান দুর্বল করছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পশ্চিমা জোটের ভেতর মতভেদের প্রশ্ন।

তবে পুতিনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও সীমাহীন নয়। রুশ অর্থনীতি তেলের আয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞায় আরও খারাপ হয়েছে। যুদ্ধ ব্যয় সামলাতে কর বাড়াতে হয়েছে। মস্কো সামনের দিকে অগ্রসর হলেও চাপ বাড়ছে। তবু পুতিন মনে করছেন, সময় তার পক্ষেই।

জার্মান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের রাশিয়াবিশেষজ্ঞ স্টেফান মাইস্টারের বিশ্লেষণ, পুতিন এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন যাতে ট্রাম্প ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে দূরে সরে যান। এতে রাশিয়ার জন্য শক্তি প্রয়োগের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তীব্র চাপে আছেন। ট্রাম্প তাকে সমঝোতা পরিকল্পনা মেনে নিতে চাপ দিচ্ছেন, যুদ্ধক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ইউক্রেনের বিপক্ষে যাচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগে অভ্যন্তরীণভাবে তার অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ইউরোপীয় মিত্ররাও রুশ সম্পদ থেকে জব্দ করা অর্থ ইউক্রেনকে দেওয়ার বিষয়ে এখনো দ্বিধায়।

ক্রেমলিন উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, প্রস্তাবের বেশ কিছু অংশ রাশিয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও এগুলোর আরও বিস্তারিত আলোচনা দরকার। ইউরোপীয় দেশগুলোর পাল্টা প্রস্তাবকে তিনি অগঠনমূলক বলে দাবি করেন।

২৮ দফা পরিকল্পনার বেশির ভাগই পুতিনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন, যেমন ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদকে আইনগতভাবে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা। তা সত্ত্বেও তিনি এটি মূল রূপেই মেনে নেবেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। কিছু ছোটখাটো বিষয়ে ক্রেমলিনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা দেখা গেছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪