| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সমগ্র হিমালয় এখন সর্বোচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকির জোন VI-এর আওতায়

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৮, ২০২৫ ইং | ১১:০৮:১৪:পূর্বাহ্ন  |  ১১৮৮৯৭৮ বার পঠিত
সমগ্র হিমালয় এখন সর্বোচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকির জোন VI-এর আওতায়

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : ভারতীয় মানক ব্যুরো ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষার জন্য নকশা কোডে বড় পরিবর্তন আনার পর একটি নতুন ভূমিকম্প জোনিং মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে প্রথমবারের মতো হিমালয় পর্বতমালার সম্পূর্ণ অংশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির এলাকা, অর্থাৎ নতুন 'জোন VI'-এর আওতায় আনা হয়েছে। এটি ভূমিকম্পের বিপদ বোঝার ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকে আসা সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি।

নতুন মানচিত্র অনুযায়ী দেশের মোট ৬১% এলাকা এখন মাঝারি থেকে উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। হিমালয় পর্বত শ্রেণীতে আগে টেকটোনিক (গঠনাত্মক) ঝুঁকি একই থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গায় জোন IV এবং V-এর মতো আলাদা আলাদা ঝুঁকি দেখানো হতো। এখন সেটিকে একটি নির্দিষ্ট এবং সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে আনা হয়েছে।

পুরনো মানচিত্রগুলিতে সেই সব ফল্ট বা ফাটলগুলির ঝুঁকি কম দেখানো হতো, যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে ফাটেনি—বিশেষ করে কেন্দ্রীয় হিমালয় অঞ্চলে, যেখানে প্রায় ২০০ বছর ধরে কোনো বড় ভূমিকম্প ঘটেনি। হিমালয় পর্বতমালা ভারতের সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় পড়ে। এর কারণ হলো এটি পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটগুলির সংঘর্ষ স্থলে অবস্থিত। ইন্ডিয়ান প্লেটটি প্রতি বছর প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার করে উত্তর দিকে ইউরেশীয় প্লেটকে ঠেলছে। এই প্রবল চাপই হিমালয়কে তৈরি করেছে এবং এখনও এটিকে উপরে তুলে ধরছে।

একটানা এই সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর ভূত্বকের মধ্যে বিশাল চাপ তৈরি হয়, এবং যখন সেই চাপ হঠাৎ মুক্তি পায়, তখনই শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। এই অঞ্চলটি ভূ-তাত্ত্বিকভাবে নতুন, যার অর্থ এখানকার শিলাগুলো এখনও ঠিকঠাকভাবে স্থির হয়নি, ভাঁজ হচ্ছে এবং ভাঙছে, যা পর্বতগুলিকে বিশেষভাবে অস্থির করে তুলেছে। এই পর্বতশ্রেণীর নিচে মেইন ফ্রন্টাল থ্রাস্ট, মেইন বাউন্ডারি থ্রাস্ট এবং মেইন সেন্ট্রাল থ্রাস্টের মতো বেশ কয়েকটি বড় ফল্ট বা ফাটল রয়েছে, যার প্রতিটিই বড় ভূমিকম্প ঘটাতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা এমন দীর্ঘ 'সিসমিক গ্যাপ' বা ভূমিকম্পের ফাঁকও চিহ্নিত করেছেন, যেখানে শত শত বছর ধরে কোনো বড় ভূমিকম্প ঘটেনি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে সেখানে বিশাল পরিমাণে শক্তি জমা হয়ে আছে।

সব মিলিয়ে, এই কারণগুলির জন্য হিমালয় বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। নতুন আপডেটে হিমালয়ান ফ্রন্টাল থ্রাস্ট ধরে ফাটলটি দক্ষিণ দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই দিকটিও বিবেচনা করা হয়েছে। এর ফলে মোহান্দের কাছে দেরাদুনের মতো এলাকাতেও বিপদ বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে বাইরের হিমালয় অংশের ঝুঁকি বাড়ানো, যেখানে ফাটলগুলি জনবহুল পাদদেশ অঞ্চলের দিকে ভূমিকম্পের জন্ম দিতে পারে। দুটি জোনের সীমানায় থাকা শহরগুলিকে এখন ডিফল্টভাবে উচ্চ-ঝুঁকির শ্রেণীতে রাখা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক সীমানার চেয়ে ভূ-তাত্ত্বিক বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত পরিকল্পনাবিদ এবং প্রকৌশলীদের নিশ্চিত করবে যে তারা দুর্বল অঞ্চলগুলিতে ভবন, সেতু এবং অন্যান্য প্রকল্পের জন্য আরও কঠোর মানদণ্ড ব্যবহার করবেন। এই মানচিত্রটি উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশের কিছু অংশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্যগুলির নিচে চলমান ইন্ডিয়ান-ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট চাপকে তুলে ধরে। এর ফলে পুরনো ভবন ও কাঠামোগুলি মেরামত করা এবং নরম মাটি বা সক্রিয় ফাটলের ওপর নতুন নির্মাণ বন্ধ করার দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নগরায়নের এই সময়ে এই ধরনের অভিন্নতা দেশকে আরও নিরাপদ করে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উন্নত মডেলিং ব্যবহার করে তৈরি এই সম্পূর্ণ পরিবর্তন সারা দেশে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করবে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪