রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বহুবিবাহ প্রতিরোধে আসাম বিধানসভা বৃহস্পতিবার পাস করেছে ‘আসাম প্রোহিবিশন অফ পলিগ্যামি বিল, ২০২৫’, যা ভারতের এই রাজ্যে বহুবিবাহকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে তপশিলি জনজাতি (এসটি) এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলভুক্ত এলাকা যেমন বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন, ডিমা হসাও, করবি আংলং ও পশ্চিম করবি আংলং এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। আসামের নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই আইন চালু করা হয়েছে।
বিলটি শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিধানসভায় তোলা হয় এবং পাশ হওয়ার আগে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একাধিক মুসলিম বিধায়ক অভিযোগ করেন, এই আইন সংখ্যালঘুদের ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাদের মতে, মুসলিম পার্সোনাল ল’ রাজ্য আইনের ঊর্ধ্বে, তাই কেন্দ্রের আইন রাজ্যের আইনের বিরুদ্ধে হতে পারে।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বিজেপি সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও বিধায়করা ঘোষণা করেন, যদি মুসলিম পার্সোনাল ল’ আইন বাস্তবায়নে বাধা দেয়, তখন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োগ করা হবে, যার ফলে ব্যক্তিগত আইনের সুবিধা আর প্রযোজ্য হবে না।
বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি একটি বিবাহ থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে তাকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর যদি দ্বিতীয় বিবাহ লুকানোর চেষ্টা করেন, তবে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়াও, বিবাহ প্রক্রিয়ায় জড়িত কাজী, পুরোহিত, গ্রামপ্রধান, বাবা-মা কিংবা আইনি পরামর্শদাতারা যারা বহুবিবাহকে উৎসাহ দেবে, তারা সবাই শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বিল পাশের পর মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ মুসলিম সমাজের মেয়েদের জন্য অভিশাপের সমান। দেশের নাগরিক হিসাবে তাদেরও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার আছে। কিন্তু এই প্রথা তাদের সেই মর্যাদা ও অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি