রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের দেহে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান অপরিহার্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো জিঙ্ক। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হরমোন নিয়ন্ত্রণ, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং মন-মেজাজ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। ঘাটতি শুরু হলে প্রথমে কিছু সতর্ক লক্ষণ দেখা দেয়, যা সময়মতো শনাক্ত করা গেলে জটিল রোগ এড়ানো সম্ভব।
জিঙ্কের ঘাটতির প্রধান লক্ষণসমূহ:
অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও সন্তান ধারণে সমস্যা: হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ঋতুস্রাবচক্র বিঘ্নিত হয় এবং গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুল ও নখের সমস্যা: অতিরিক্ত চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এবং নখ ভেঙে যাওয়া।
ত্বকের সমস্যা: শুকনা ত্বক, ফুসকুড়ি, একজিমা বা সংক্রমণ।
প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতা: ঘন ঘন ঠাণ্ডা, জ্বর বা সংক্রমণ।
ক্ষত শুকাতে দেরি: কোষ মেরামতের কাজ না হওয়ায় ক্ষত দ্রুত সেরে উঠতে পারে না।
ওজন ও খিদে কমে যাওয়া: খাবারে অনিচ্ছা, স্বাদ-গন্ধ কম অনুভব, ওজন কমা।
মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা: হঠাৎ ভুলে যাওয়া বা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
অবসাদ ও চিড়চিড়ে মেজাজ: হতাশা বা রাগজনিত সমস্যা।
মুখ ও জিহ্বার সমস্যা: জিহ্বায় সাদা আস্তরণ, মুখে ঘা বা গন্ধ সংবেদনশীলতা।
হজমের সমস্যা: অন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করা, ডায়রিয়া বা পেট ফাঁপা।
চোখের সমস্যা: রাতে ভালো দেখাতে না পারা বা আলোতে অস্বস্তি।
হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা: হাড় দুর্বল হয়ে ব্যথা অনুভব।
জিঙ্কের ঘাটতি কাটানোর উপায়:
নিয়মিত জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। এর মধ্যে রয়েছে:
বাদাম ও বীজ: কাজুবাদাম, আখরোট, বিভিন্ন বীজ।
দুগ্ধজাত খাবার: দুধ ও দই।
শস্য: গম, চাল, ওটস।
ডাল: ছোলা, মুসুর ডাল, রাজমা।
মাংস ও সামুদ্রিক খাবার: রেড মিট, ঝিনুক, কাঁকড়া, চিংড়ি, মাছ।
সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা