পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হেলাল সিকদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ সময় তারা ভিডিও ধারণ করে চাঁদাও দাবি করেছিলেন।
ঘটনাটি উপজেলার ২ নং মালিখালী ইউনিয়নের মিঠারকুল গ্রামে ঘটেছে। সম্প্রতি এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক গৃহবধূ ও আরেক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে পা দিয়ে চেপে ধরার মাধ্যমে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগীরা চিৎকার করেন, তবে অভিযুক্তরা নির্যাতন চালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর ভাসুরের ছেলে টুটুল সিকদার (৩২) বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে হেলাল সিকদারসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন হেলাল সিকদার (৩৫), মিলন সিকদার (৩৮), দেলোয়ার ওরফে দেলাল সিকদার (৩০), নান্নু সিকদার (৩৪), মামুন সিকদার (২৭)। তারা সবাই নাজিরপুর উপজেলার মিঠারকুল গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ফোরকান মোল্লার ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার সুবাদে গত ৬ আগস্ট রাতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। স্বামী অনুপস্থিত থাকায় তারা ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে বেধরক মারধর করেন এবং সেই ভিডিও ধারণ করেন। এরপর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরো বলেন, টাকা না থাকায় তারা ঘরে থাকা প্রায় ২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। হুমকি দেয়, বাকি টাকা পরিশোধ না করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। অভিযুক্তদের এই কর্মকাণ্ডের কারণে ভুক্তভোগীর মানসম্মান ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী মোবাইল ফোনে জানান, “ষড়যন্ত্র করে আমার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। জায়গা-জমি নিয়ে ঝামেলার সুবাদে এ ঘটনা ঘটেছে। আমি এখন বাড়িছাড়া। আমি চাই শান্তি ও ন্যায়বিচার পাই।”
অভিযুক্ত হেলাল সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্ত হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা