প্রতিনিধি, ভাঙ্গা (ফরিদপুর): ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী এলাকায় সুমন শেখ হত্যার বিচার দাবিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা সদরের অন্তত ২২টি গ্রামের বাসিন্দারা বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনার জেরে বিবদমান দুটি গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (৩ জুলাই) রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাবেক মহিলা কমিশনার পারুলী আক্তারের নেতৃত্বে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের শত শত নারী ভাঙ্গা থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা থানার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে প্রথমে তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় থানার প্রধান ফটক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলকে ভিডিও কলে যুক্ত করা হয়। তিনি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সুমন শেখ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।
এমপি বলেন, “হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ভাঙ্গার মাটিতে কোনো খুনি-সন্ত্রাসীর স্থান হবে না।” তাঁর আশ্বাসের পর এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের পর বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
এর আগে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বুধবার দুপুরে নিহত সুমন শেখের মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি কাপুড়িয়া সদরদীতে পৌঁছায়। এশার নামাজ শেষে স্থানীয় ঈদগাহ মাদরাসা মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঘটনার দিন সকালে সুমন শেখ হত্যার প্রতিবাদে ভাঙ্গা–ফরিদপুর, বরিশাল ও মাওয়া–খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি নেতারা অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ভাঙ্গা কুমার নদীর তীরবর্তী পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ নিহত হন। তিনি কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে আটক করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম