ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের তামিলনাড়ুতে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি কারাইকাল থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং উত্তর তামিলনাড়ু দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।
আইএমডি জানিয়েছে, রোববার ভোরের আগে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে; দেশটিতে ৮০ জন নিহত এবং ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, ভূমিধস ও পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়ির ওপর আশ্রয় নেওয়া মানুষদের উদ্ধার করতে কাজ করছে উদ্ধারকারীরা।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তামিলনাড়ুর দক্ষিণাঞ্চল এবং অন্যান্য জায়গায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্য কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে তামিলনাড়ুতে ইন্ডিগো তাদের একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার রাতে রামআশ্রম-ওখা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। সমুদ্রের ওপর তৈরি পাম্বন ব্রিজে ঝড়ো বাতাস বইয়ে যাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করলেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। ঘূর্ণিঝড়টির মূল আঘাত হানবে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায়।
ঘূর্ণিঝড়টি আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৮০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৩০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৭৫০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৭৫৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর (পুনঃ) ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম