| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেগম খালেদা জিয়ার দেশনেত্রী হয়ে ওঠার পেছনের গল্প

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ইং | ১০:৩১:৫৪:পূর্বাহ্ন  |  ১০৯১২৪৭ বার পঠিত
বেগম খালেদা জিয়ার দেশনেত্রী হয়ে ওঠার পেছনের গল্প
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

শাহানুজ্জামান টিটু 

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি শুধু দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে 'দেশনেত্রী' হিসেবে পরিচিত। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে বাংলাদেশের মতো একটি রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত দেশে তার এই উত্থানের গল্প অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আলোচনার দাবি রাখে।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন কোনো পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা ছিল না। ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পরই মূলত তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। স্বামীর মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা দলের ভেতরে ও বাইরে এক গভীর সংকটের জন্ম দেয়। দেশের এক ক্রান্তিকালে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। সে সময় একজন গৃহবধূর জন্য সরাসরি রাজনীতিতে আসাটা ছিল এক সাহসী পদক্ষেপ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেগম জিয়ার 'দেশনেত্রী' হয়ে ওঠার পেছনে প্রধান কারণ হলো তার 'আপসহীন' নেতৃত্ব। সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন, তা তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়।

প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুর পর তৎকালীন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, যা তাঁকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়েছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। তাঁর এই দৃঢ়তাকে কর্মীরা আপসহীনতার প্রতীক হিসেবে দেখে।

১৯৯০ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এবং তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। 

পরবর্তীতে তিনি আরও দুইবার (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ এবং ২০০১) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক ধারায় নিজের স্থান পাকাপোক্ত করে নেন।

বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতা ও দীর্ঘ দিন ধরে গৃহবন্দী থাকার কারণে শেষ দিকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে করতে পারেনি। তবে দলের নীতিনির্ধারক ও তৃণমূল কর্মীদের কাছে তিনি আজও অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থা তাঁকে 'দেশনেত্রী' উপাধিতে ভূষিত করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা ছিল ত্যাগ, সংগ্রাম আর দৃঢ়তার এক অনন্য মিশ্রণ। স্বামীর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পর রাজনীতিতে এসে তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী হননি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে তিনি ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট 


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪