দীপক চক্রবর্তী মাগুরা: রোদ-বৃষ্টি মাথা পেতে নেয় চাষি, মাটি ফেটে জেগে ওঠে ফসলের হাসি। অগ্রহায়ণ বাংলা বছরের নবম মাস। দেশে এখন বোরো ইরি ধানের চারা উৎপাদনের সব থেকে উৎকৃষ্ট মৌসুম। এই ধানের চারা গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের কাছে ধানের পাতো বলে পরিচিত। এই চারার বয়স বিশ থেকে একমাস হলে রোপনের আনন্দে মেতে উঠবে কৃষকরা। তাই এখন বোরো ইরি ধানের চারা উৎপাদনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরার কৃষকরা।
কেউ এই মাঠে ধানের চারা উৎপাদনের জন্য বীজ তলা তৈরি করছেন, কেউ আবার প্রস্তুতকরা বীজ তলায় অঙ্কুরিত সোনালি ধানের বীজ জমিতে ছিটাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে উৎপাদিত চারা বীজ তলা থেকে তুলে ধানের ক্ষেতে রোপণ করার উপযোগী হবে। কৃষক তখন আবাদি জমি ধান রোপণের উপযোগী করে রোপণ করবে।
বাংলাদেশে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধানের মৌসুম। স্থানীয় পর্যায়ে এই মৌসুমকে চইতে ইরির মৌসুমও বলা হয়। এই মৌসুমে কৃষক বোরো-২৯, বোরো-২৮, বোরো-১০২ সহ নতুন নতুন নানান জাতের ধানের আবাদ করে থাকে। জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ সদরের ঘোপ বাওড় ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা বোরো ধানের চারা/পাতো উৎপাদনে ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। অল্প কিছু দিন হল এই বাওড় থেকে বর্ষার পানি নেমে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার কারণে কৃষকের ফসলি জমি জেগে উঠেছে।
এই বাওড়ের অধিকাংশ জমিতে একটি মাত্র ফসল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কৃষক শুধুমাত্র বোরো ইরি ধানের আবাদ করে থাকে। বর্ষার পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে এখানে অন্য কোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মাত্র একটি ফসলে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
কৃষক বাবলু মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান,‘আমরা এই বাওড়ের জমিতে বছরে একবার ধান লাগাই। একবারের বেশি এই জমিতে ধান লাগানো যায় না। বর্ষার পানিতে বছরে ছয় মাস তলায় থায়ে। সারা বছরের খাবারের জন্যি তাই আঁটে পিটে কাজ করি। আল্লাহ করলি এই বাওড়ের ধান খুব ভালো হয়। আমরা তাই একবার ধান লাগায়ে সারা বছর খাই।’
রিপোর্টার্স২৪/এসসি