স্পোর্টস ডেস্ক: এএফসি অনূর্ধ্ব–১৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন ভাঙলো বাংলাদেশের। গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ ম্যাচে শক্তিশালী চীনের কাছে ৪–০ গোলের বড় হারে বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের দলকে। এর মধ্যে দুই গোল যেন উপহার দিয়ে এল যুবারা।
শুয়াই ওয়েইহাওয়ের হ্যাটট্রিক আর বদলি খেলোয়াড় ঝাও সংইউয়ানের শেষ মুহূর্তের গোল বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিল ২০০৬ সালের পর আবার মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন থেকে।
চীনে দারুণ আশায় ভর করেই গিয়েছিল অনূর্ধ্ব–১৭ দল। টানা চার জয়ে তৈরি হয়েছিল প্রত্যাশার পাহাড়। তিমোর-লেস্তেকে ৫-০, ব্রুনেইকে ৮-০, শ্রীলঙ্কাকে ৫-০ ও বাহরাইনকে ২-১ গোলে হারিয়ে চোখে পড়েছিল আত্মবিশ্বাসী ফুটবল। অন্যদিকে চীনও এসেছিল চার ম্যাচে ৩৮ গোল করে। তাই শেষ ম্যাচে ভালো লড়াইয়ের আশা থাকলেও সেটা হলো না।
শুরু থেকেই বাংলাদেশের ডিফেন্সে দেখা গেল ছন্দহীনতা আর ভুলের পর ভুল। মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক কুয়াং ঝাওলেই একের পর এক থ্রু বল ঢুকিয়ে বাংলাদেশ রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। আর সামনে ছিলেন ওয়েইহাও, যিনি প্রতিটি সুযোগে তুলে ধরেছেন লাল-সবুজদের দুর্বলতা।
৮ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ঝাওলেইয়ের নিচু ক্রসটি কামাল মেরধার গায়ে লেগে দিক বদল করে। বলটি ধরতে গিয়ে একটু ঢিলেমি করে বসেন গোলরক্ষক আলিফ রহমান। সেই সুযোগে দ্রুত এগিয়ে এসে কাছ থেকে গোল করেন ওয়েইহাও। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল ব্যক্তিনির্ভর, দল হিসেবে ছন্দ খুঁজে পায়নি কেউ। একমাত্র ভালো সুযোগটি আসে ১৮তম মিনিটে, যখন ইহসান হাবিব রেদিয়নের বাঁ-পায়ের জোরালো শটটি দারুণভাবে ঠেকান চীনা গোলরক্ষক কিন জিনিউ।
৩৮তম মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। এবার পুরোপুরি নিজেদের ভুলে। কামালের অদ্ভুত ব্যাক-পাস সরাসরি চলে যায় ওয়েইহাওয়ের কাছে। তিনি সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
বিরতির পরও চীনের আধিপত্য একই রকম থাকে। কর্নার থেকে ৫৩তম মিনিটে হেডে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওয়েইহাও। আর ৮৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে কোণে শটে চতুর্থ গোলটি করেন সংইউয়ান। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক ফয়সাল বলেন, ‘চীন আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে ম্যাচটি আমাদের দেখিয়েছে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি এবং ভবিষ্যতে কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে।’
কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও একই সুরে বললেন, “চীন টেকনিক্যালি, ট্যাকটিক্যালি, শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ছেলেরা কয়েকটা হালকা ভুল করেছে, কিন্তু সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। দুই বছর ধরে দলটি একসঙ্গে খেলছে—এ অভিজ্ঞতা থেকে তারা আরও শিখবে।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব