রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: অবশেষে জয়ের দেখা পেল লিভারপুল। আর্নে স্লটের দল লন্ডনে ওয়েস্ট হামের মাঠে ২–০ গোলে জিতে বিরতির পর নিজেদের পুনরুদ্ধারের আভাস দিয়েছে। তবে ম্যাচের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে কোচের একটি সিদ্ধান্ত—মোহাম্মদ সালাহকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা। ক্লপ-উত্তর যুগে এই প্রথম বেঞ্চে বসে ম্যাচ দেখলেন লিভারপুল তারকা।
সালাহকে বিশ্রাম দিয়ে আক্রমণভাগ সাজানো হয় দুই ব্যয়বহুল সাইনিং—আলেকজান্ডার ইসাক ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে নিয়ে। আর সুযোগ পেয়েই নিজেদের মেলে ধরেছেন দুজন। লিগে লিভারপুলের জার্সিতে প্রথম গোলটি করেন ইসাক, আর নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হন ভির্টৎস। যোগ করা সময়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন কোডি গাকপো।
জয়ের পর ১৩ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুল এখন লিগের পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম স্থানে। সাম্প্রতিক ১২ ম্যাচে ৯ হারের পর এই জয় দলটির জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ভির্টৎস ও ইসাকের পারফরম্যান্সে নতুন করে আশার আলো দেখছেন সমর্থকেরা।
তবে লিভারপুলের জয়টিতে ‘কিন্তু’ও রয়েছে। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট হাম পুরো মৌসুম ধরেই তাল খুঁজে পাচ্ছে না। ম্যাচেও তারা তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি। কিংবদন্তি বিলি বন্ডসের মৃত্যুতে শোকাহত সমর্থকেরা অন্তত লড়াই দেখতে চাইলেও দল তাদের হতাশ করেছে। এর সঙ্গে লুকাস পাকেতার অযৌক্তিক লাল কার্ড—৮৩ মিনিটে ধারাবাহিক দুই হলুদ—পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে স্বাগতিকদের জন্য।
এই ম্যাচের পর স্লটের সামনে বড় প্রশ্ন—সালাহকে বাইরে রাখায় কি ভির্টৎস ও ইসাকের সৃজনশীলতা আরও প্রভাবশালী হয়েছে? বহু বছর ধরে ডান প্রান্তে সালাহই ছিলেন আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে আক্রমণের আলো ছড়িয়ে পড়েছে ভির্টৎসের দিকে, যা লিভারপুলকে আরও গতিশীল করে তুলেছে বলে মনে হয়েছে।
ইসাকের গোলটি এসেছে ভির্টৎসের দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে, গাকপোর ভূমিকা থাকলেও আক্রমণের মূল শৈল্পিক দিকটি এসেছে ভির্টৎসের পা থেকে। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া না হলে ব্যবধান বড় হতে পারত।
তবে যা দেখা গেছে, তাতেই লিভারপুল সমর্থকেরা নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন—সম্ভবত স্লটের রদবদল সত্যিই কাজ করতে শুরু করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি