রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে অভূতপূর্ব উন্নতি দেখিয়েছে। চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ মেট্রিকটনের বিপরীতে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ লাখ মেট্রিকটনে। যার ফলে চলতি অর্থবছরে আমদানির ওপর নির্ভরতা নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে; এ বছর এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের কাছ থেকে মাত্র ১২,৯০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পূর্বে বছরে পাঁচ থেকে সাত লাখ টন আমদানির উপর নির্ভরতা ছিল।
তবে বাজারে দাম এখনও ভোক্তার নাগালে না আসায় ভোক্তা সুফল পাচ্ছে না, এটাই বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সমস্যা উৎপাদনে নয়, সংরক্ষণ ব্যবস্থা দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিসংখ্যানে অস্বচ্ছতাই। প্রচলিত বাঁশের মাচায় সংরক্ষণে বার্ষিক প্রায় ৩০% পেঁয়াজ নষ্ট হতো; অর্থাৎ ১২–১৩ লাখ টন পর্যন্ত অপচয় হতো।
কৃষি মন্ত্রণালয় এ বছর প্রায় চার হাজার ‘এয়ার-ফ্লো মেশিন’ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে, প্রতিটিতে প্রায় ১২ মেট্রিকটন রাখার ক্ষমতা। ড. মো. জামাল উদ্দীন জানান, এ উদ্যোগে লোকাল পর্যায়ে কৃষক নিজের উৎপাদন সংরক্ষণ করতে পারছে, মজুদদার সিন্ডিকেটের সুযোগ কমেছে এবং ফলশ্রুতিতে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে সহায়তা ও মুড়িকাটা পেঁয়াজ সরবরাহও বাজার স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলছেন, সংরক্ষণ পদ্ধতি উন্নত হলে পেঁয়াজের নষ্ট কমে বাজার চাহিদা ম্লান হবে এবং আমদানির প্রয়োজন শূন্যে নেমে আসবে।
পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রে মজুদে থাকা পেঁয়াজের বড় অংশ পচে গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে উৎপাদকরা এখন ভাল দাম পাচ্ছেন; সরকার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি