রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ব্যস্ততার কারণে বাইরে থাকলে আমরা কী খাচ্ছি বা পান করছি, তা অনেক সময় খেয়াল করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু এই অসতর্কতাই বাড়িয়ে দিতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশেষ করে মস্তিষ্কের। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিউরোসায়েন্টিস্ট রবার্ট ডব্লিউ বি লাভ জানিয়েছেন, নিয়মিত যে তিন ধরনের পানীয় আমরা গ্রহণ করি, সেগুলো মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুর জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞ রবার্ট লাভ বলেন, অ্যালকোহল গ্রহণ করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এতে ঘুমের ব্যাঘাত, মনোযোগের ঘাটতি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ে। অ্যালকোহল অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন পান করলে স্মৃতিভ্রষ্টতা বা অনিদ্রার ঝুঁকি আরও বাড়ে।
কার্বনেটেড পানীয়, বিশেষ করে বেশি চিনি–সমৃদ্ধ সোডা, শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি অ্যালঝেইমার্সসহ নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি ডায়েট সোডাও নিরাপদ নয়, এর কৃত্রিম উপাদান স্নায়ুতন্ত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সোডা পান করলে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
এ ছাড়া, কলের পানিতে থাকা অতিরিক্ত ফ্লুয়োরাইডও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দাঁতের ক্ষয়রোধে ব্যবহৃত ফ্লুয়োরাইড নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে স্নায়ুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কলের পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে যেমন সুষম খাবার প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়া। অনেকেই অজান্তেই যে তিন পানীয় নিয়মিত পান করেন, সেগুলোই ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যসমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। সময় থাকতেই সচেতন হলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
রিপোর্টার্স২৪/বাবিরিপোর্টার্স২৪/বাবি