সিনিয়র রিপোর্টার:বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনামলে ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়ার ওপর জেল–জুলুমসহ নানা নিপীড়ন চালানো হয়। অবিরাম নির্যাতনের কারণে তিনি আজ জীবনসংকটে ভুগছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী শক্তির লাখো নেতা–কর্মীর ওপরও সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ছিল গণতন্ত্রের ভয়ংকর শত্রু। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দুঃশাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রের পূর্ণ পুনরুজ্জীবন এবং রাষ্ট্র–সমাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপির সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর)ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক লেখায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৯০ সালের এই দিনে টানা আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ পেশাগত শপথ ভঙ্গ করে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে অস্ত্রের মুখে অপসারণ করে অসাংবিধানিক শাসন জারি করেছিলেন, যা বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে দেয়। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, এরশাদ তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া টানা নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুর্বার গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র–জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে স্বৈরাচার পতন ঘটে এবং গণতন্ত্র মুক্ত হয়। সেই চেতনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও ছাত্র–জনতা হিংস্র ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করে।
তিনি বলেন, ‘৮২ থেকে ’৯০–এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।’ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই দিনে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী অংশীদার দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান এবং গণতন্ত্রবিরোধী পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান রোধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি