| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভোটের আগে জোট–রাজনীতি, পর্দার আড়ালে সমঝোতার তৎপরতা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫ ইং | ০৭:৫৮:৪৯:পূর্বাহ্ন  |  ১০৫৮২১১ বার পঠিত
ভোটের আগে জোট–রাজনীতি, পর্দার আড়ালে সমঝোতার তৎপরতা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোট গঠন, আসন–সমঝোতা ও কৌশলগত বোঝাপড়াকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা চলছে। নির্বাচনের আগে যেমন জোটবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ রয়েছে, তেমনি নির্বাচন–পরবর্তী সরকারে সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও দৃশ্যের আড়ালে গুরুত্ব পাচ্ছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল যেন একটি ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’-এর ভেতর দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে এ নিয়ে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছি। নির্বাচন–পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনেও গণঅভ্যুত্থানে অংশীজনদের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত।

তিনি জানান, নির্বাচনের আগে জোট গঠন এবং নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জায়গা পাওয়ার আলোচনা সমান্তরালে চলছে। নূরের মতে, শুধু নির্বাচন নয়, পরবর্তী দেশের স্থিতিশীলতাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

দুই ফ্রন্টে মূল লড়াই দেখছে দলগুলো

গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি এবং আরও কয়েকটি দল নতুন একটি জোটের আলোচনায় থাকলেও তারা মনে করছেন ভবিষ্যতে বিএনপি বা জামায়াতনেতৃত্বাধীন যেকোনো একটি ফ্রন্টের সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতা প্রয়োজন হবে। নূর বলেন, তৃতীয় জোট করে সরকার গঠন প্রায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ফ্রন্টের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে যেতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও ইঙ্গিত দেন যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, পলিটিক্সে ডায়ালগ চলবেই। শেষ পর্যন্ত একটা ফরমেশন হবে।

তিনি আরও জানান, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য বিএনপি কিছু আসন রেখে দিয়েছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী দলগুলোকে নিজেদের মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হওয়ায় জোট–রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ধর্মভিত্তিক জোটের সক্রিয় প্রস্তুতি

জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ আটটি ইসলামপন্থি দল ইতোমধ্যে জোটবদ্ধ হয়ে বিভাগীয় সমাবেশ করছে। ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম বলেন, এটি নির্বাচনকে ঘিরে এক ধরনের সমঝোতা। প্রতিটি আসনে ইসলামী পক্ষের একজনই প্রার্থী থাকবে—এটাই লক্ষ্য।

এনসিপির নতুন কৌশলগত সমীকরণ

গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, আরপিও সংশোধনের কারণে এবার প্রচলিত অর্থে জোট নয়, বরং কৌশলগত অ্যালায়েন্স হবে। জুলাই সনদের বাস্তবায়নে যে দলগুলো ইতিবাচক তাদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা হতে পারে।

বিএনপি–জামায়াত দুই অক্ষে লড়াইয়ের সম্ভাবনা

গণঅধিকার পরিষদের ধারণা, সারাদেশে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত–নেতৃত্বাধীন দুই ফ্রন্টে। তবে ভবিষ্যতে তাদের কারও সঙ্গে সমঝোতার দরজা খোলা থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চ, জমিয়ত, গণফোরাম, এলডিপি, বিজেপিসহ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা কয়েকটি দলও সম্ভাব্য জোট আলোচনায় রয়েছে।

জোট–সমঝোতা মাথায় রেখে ফাঁকা রাখা আসন

বৃহস্পতিবার নতুন করে ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও ২৮টি আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। দলের নেতাদের দাবি, শরিকদের জন্যই এসব আসন খালি রাখা হয়েছে।

ভিন্ন পথে জাতীয় পার্টির একটি অংশ

বিভক্ত জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অংশও কয়েকটি দল নিয়ে নতুন জোট গঠনের প্রচেষ্টা শুরু করেছে। নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, নির্বাচন করুক বা না করুক দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচি উপস্থাপনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছাড়া স্থিতিশীলতা ফিরবে না। কোনো বড় দলকে বাদ দিলে তারা বিকল্প পথ খুঁজবে যা গঠনমূলক হবে না।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় জোট, কৌশলগত অ্যালায়েন্স এবং পর্দার আড়ালের সমঝোতা সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে চলছে গভীর রাজনৈতিক তৎপরতা।-বিবিসি বাংলা

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪