রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টানা ছয় দিনের অচলাবস্থার পর আজ থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হচ্ছে বার্ষিক পরীক্ষা। তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন, বদলি আদেশ ও ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলো।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ যৌথভাবে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে পরীক্ষা চলাকালীন কোনো বিদ্যালয়ে শাটডাউন কার্যকর হবে না। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. মাহবুবর রহমান বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান। তাদের ক্ষতি আমরা চাই না। দুই দিন পিছিয়ে গেছে, কিন্তু শিক্ষাজীবন স্থবির হবে না।”
তবে আন্দোলন চলমান থাকলেও পরীক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪২ জন আন্দোলনকারী সহকারী শিক্ষককে ভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আন্দোলনের পাঁচ শীর্ষ নেতা, যার মধ্যে খায়রুন নাহার লিপি, মো. শামছুদ্দীন মাসুদ, মো. আবুল কাশেম, মো. মাহবুবর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামান।
সংগঠন নেতারা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, তবে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫,৫৬৯টি এবং এখানে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে বেতনভুক্ত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।
এর আগে ৮-১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা কর্মস্থলে ফিরে গেলেও সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি না হওয়ায় আবার কর্মবিরতিতে ফিরে যান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম