রিপোর্টার্স স্পোর্টস ডেস্ক: লিভারপুলের সাম্প্রতিক সংকটের ভেতর সবচেয়ে বড় নাটকীয় মোড়টি তৈরি করেছে মোহাম্মদ সালাহ। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের মিশনে তার অসাধারণ অবদান ছিল অস্বীকার করার উপায় নেই। ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দুই বছরের নতুন চুক্তিও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সালাহই এবার অ্যানফিল্ডে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন, যা ক্যারিয়ারের পুরো সময়টায় কখনো হয়নি—টানা তিন ম্যাচ ধরে বেঞ্চে বসে থাকতে হলো তাকে।
শনিবার সন্ধ্যায় লিডস ইউনাইটেডের মাঠে ৩–৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ের পর আর নীরব থাকতে পারলেন না মিশরীয় তারকা। সাড়ে সাত মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে উগরে দিলেন ক্ষোভ, হতাশা আর অবিশ্বাস। লিডস ম্যাচের আগে লিভারপুল কোচ স্লট নিজেই বলেছিলেন, সালাহকে বেঞ্চে রেখে খেলানো কঠিন। কিন্তু বাস্তবে তিনি গত মৌসুমের গোল্ডেন বুটজয়ীকে টানা তিন ম্যাচ একাদশের বাইরে রেখেছেন! ওয়েস্ট হ্যাম ও সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে বেঞ্চে বসানোর পর লিডসের বিরুদ্ধেও তাকে নামানো হয়নি। অথচ তার আগে টানা ৫৩ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
ম্যাচের পর সালাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোচ স্লটের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। তার ভাষায়, তাকে যেন বলির পাঠা বানানো হয়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, টানা তৃতীয় ম্যাচে ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকতে হলো। এমন অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারে কখনো হয়নি। বছরের পর বছর ক্লাবের জন্য যা করেছি, বিশেষ করে গত মৌসুমে তার পরও মনে হচ্ছে আমাকে ক্লাব বাসের নিচে ছুঁড়ে দিয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেউ একজন ইচ্ছাকৃতভাবে সব দোষ তার ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। গ্রীষ্মে আমাকে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন আমি বেঞ্চে, যেন তারা বলতে পারে সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি। স্লটের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল, এখন কিছুই নেই। মনে হচ্ছে, কেউ চায় না আমি এখানে থাকি।”
গত মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাবগুলোর কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও লিভারপুলের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছিলেন সালাহ। সে সিদ্ধান্তে কোনো অনুশোচনা আছে কি না এমন প্রশ্নে ভীষণ কষ্ট নিয়ে তিনি বলেন,
এটা খুব কঠিন প্রশ্ন। লিভারপুলের জন্য চুক্তি করে আমি কখনো অনুতপ্ত হব না। ভেবেছিলাম এখানেই ক্যারিয়ার শেষ করব। কিন্তু এখন কিছুই পরিকল্পনামতো হচ্ছে না।
ইউরোপিয়ান ফুটবলে এখন জোর গুঞ্জন আগামী জানুয়ারিতেই নাকি লিভারপুল ছাড়বেন সালাহ। তিনিও যেন মানসিকভাবে সেই পথেই হাঁটছেন। আমার মাথায় একটা প্রশ্নই ঘুরছে কেন এটা এভাবে শেষ হচ্ছে? মাত্র পাঁচ মাস আগে আমি পুরস্কার জিতেছি, এখন কেন সবাই আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে? পুরো দলই ফর্মে নেই, কিন্তু দায়টা যেন শুধু আমার।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম