রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিভিন্ন ধারা অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিলের আবেদন জানান। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যদি পঞ্চদশ সংশোধনীতে পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে, তবে পুরো সংশোধনী একবারেই বাতিল করা যেতে পারে।”
এর আগে ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। গত ২ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিলে পক্ষভুক্ত হন।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা—তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ—অবৈধ ঘোষণা করেন এবং সংবিধানে পুনরায় গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি; ফলে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং তা মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
হাইকোর্টের বেঞ্চ—বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী—পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদসহ ৭(ক), ৭(খ) এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, সংশোধনীর সব বিধান বাতিল করা হয়নি; বাকি অংশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংসদের ওপর ন্যস্ত করা হলো।
গণভোটের বিধান বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোট ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়।
এরপর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয় ৮ জুলাই। সর্বোচ্চ আদালতে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করা হয় ৩ নভেম্বর, যেখানে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিলের আবেদন জানানো হয়। ড. শরীফ ভূঁইয়া রিটকারীর পক্ষে আবেদন করেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ গত ১৩ নভেম্বর মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি