রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জনস্বার্থের পাশাপাশি অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে অপব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এসব অপব্যবহার রোধের অঙ্গীকার থাকা জরুরি।
একই সঙ্গে নির্বাচন–পরবর্তী সরকার পরিচালনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ৫২টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে টিআইবি।
রোববার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘সুশাসিত, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার প্রণয়নে টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে নারী–পুরুষসহ সব জেন্ডার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, শারীরিক–মানসিক প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সমঅধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জাতি প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, নারী, স্বাস্থ্য ও শ্রমবিষয়ক বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পর্যাপ্ত আলোচনা নেই যা উদ্বেগের বিষয়। দলগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিংস প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন জাতীয় কমিটি ও টাস্কফোর্সের সুপারিশের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও ইশতেহারে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঠিক তদন্ত ও বিচার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও জনগণ প্রত্যাশা করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ছাড়া শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, তাঁদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান। টিআইবির ৫২ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন।
টিআইবি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও কার্যকর ‘দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় কৌশলপত্র’ প্রণয়নের প্রস্তাব করেছে। এতে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবিরোধী দায়িত্ব, কর্তব্য, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি