স্পোর্টস ডেস্ক: বছরখানেক আগে টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি থেকে অবসর ঘোষণা করলেও সিদ্ধান্ত বদলেছেন সাকিব আল হাসান। জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কোনো ফরম্যাট থেকেই অবসর নেননি এবং তিন সংস্করণেই খেলতে চান।
‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্টে সাকিব বলেন, দেশে ফিরে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ(ওয়ানডে, টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি) খেলে একসঙ্গে সব ফরম্যাট থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা তার। কোন ফরম্যাট দিয়ে শুরু হবে, তা নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। শুধু ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে বিদায় চাইছেন তিনি।
২০২৪ সালের মে মাসের পর দেশে ফেরেননি সাকিব। সরকার পরিবর্তনের পর আলোচনায় আসেন তিনি; এক হত্যা মামলার এফআইআরে তার নামও উঠে আসে। পাকিস্তান ও ভারতে টেস্ট খেললেও কানপুরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিই তার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সাকিব জানিয়েছেন, তিনি আশাবাদী এবং বিভিন্ন বিদেশী টি-টোয়েন্টি লিগে খেলা চালিয়ে যাওয়া তার সেই প্রত্যাশারই অংশ।
পূর্বে টি–টোয়েন্টি না খেলার ঘোষণা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলার পরিকল্পনাও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বদলে যায়। পরে বিসিবি তাকে দলেও রাখেনি। এদিকে বিসিবির এক কর্মকর্তা তাঁর ফেরার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখলেও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর কারণে সাকিব আর দেশের হয়ে খেলতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রান্ড অ্যাম্বাসাডর সাকিব ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র ক্রিকেটার যিনি তিন ফরম্যাটেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ছিলেন দীর্ঘদিন। ৭১টি টেস্টে ৩৭.৭৭ গড়ে ৭৬০৯ রান ও ২৪৬ উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তিনি দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। ২৪৬ টি ওডিআই ম্যাচে ৩৭.২৯ গড়ে ৭৫৭০ রান ও ৩১৭ উইকেট এবং ১২৯ টি টি-২০ ম্যাচে ২৫৫১ রান ও ১৪৯ টি উইকেট নেন। আন্তর্জাতিক টি-২০তে তিনি ১৪৯ উইকেট নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে শীর্ষে আছেন। বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ৩ ফরম্যাটেই ৬,০০০ রান ও ৩০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড, বিশ্বের প্রথম বাঁহাতি ক্রিকেটার হিসেবে ৭০০ আন্তর্জাতিক উইকেট নেওয়ার কীর্তিও আছে। এছাড়াও টি-২০ বিশ্বকাপে ৫০ উইকেট শিকারি একমাত্র বোলার সাকিব।
ক্রিকেটের পরের জীবনে রাজনীতি নিয়েই এগোতে চান বলে জানান মাগুরা–২ এর এই সংসদ সদস্য। দেশের ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা তার এখনও রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।