নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিএডিসি কর্তৃক প্রদত্ত সেচ পাম্পের বাৎসরিক কিস্তি অন্যের নামে জমা দেওয়া এবং বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন এক গ্রাহক।
লিখিত অভিযোগে গ্রাহক মোঃ কাইয়ূম খান জানান, তার ভাতিজা ইমরান হাসান খানের পক্ষে ২০২১ সালের ৩১ আগস্টে জনতা ব্যাংক পিএলসি, নেত্রকোণা শাখায় দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি মানি রিসিট ইমরান হাসান খানের নামে না দিয়ে নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দীপুর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের জনৈক মাহবুব আলমের নামে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৯-২০, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ সালের জন্য প্রতিটি বছরের ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মানি রিসিট প্রদান না করে নানান অজুহাত ও টালবাহানা করে তাদের হয়রানি করেছেন। ২০ হাজার টাকা বিনিময়ে আমাকে ১টি সেচ পাম্পের ঘর প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু টাকা না দেওয়ায় ঘর প্রদানের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
এদিকে, বিনা নোটিশে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় বর্তমান বোরো ধান মৌসুমে পানি সরবরাহ না হওয়ায় বীজতলায় বীজ বপনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষকরা কৃষিকাজ থেকে বিরত রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মোঃ কাইয়ূম খান বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং সদস্য পরিচালক, বিএডিসি (ক্ষুদ্র সেচ) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মোঃ কাইয়ূম খান সাংবাদিকদের বলেন, “প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের কারণে আমি হয়রানির শিকার হয়েছি। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।”
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “মোঃ কাইয়ূম খানের অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমাকে অহেতুক অভিযুক্ত করা হয়েছে।”