রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: এ বছরের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো সশরীরে নোবেল পুরস্কার নিতে উপস্থিত হচ্ছেন না। অসলোতে তার উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আয়োজকদের কাছে নিশ্চিত হয়েছে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। মাচাদোর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করবেন তার মেয়ে আনা কোরিনা মাচাদো।
স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা ৫৮ বছর বয়সী মাচাদোকে গত আগস্টে সর্বশেষ জনসম্মুখে দেখা যায়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, মাচাদো নরওয়ে গেলে তাকে ‘পলাতক’ আসামি হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং দেশে ফিরলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে।
নোবেল ইনস্টিটিউটের মুখপাত্র এরিক আশহেইম এএফপিকে জানান, মাচাদো অনুষ্ঠানে আসছেন না। ইনস্টিটিউটের পরিচালক ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভাইকেন নরওয়ের এনআরকে রেডিওকে বলেন, আনা কোরিনা মায়ের লেখা বক্তব্য পড়ে শোনাবেন। মাচাদো বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে আয়োজকদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
অসলো সিটি হলে আজ স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইসহ কয়েকটি লাতিন দেশের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। মাচাদোর মা ও সন্তানরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
মাচাদোর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে নোবেলজয়ীদের প্রথাগত সংবাদ সম্মেলন বিলম্বিত হয়ে পরে বাতিল হয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলে তার না আসাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচন কারচুপি করে জেতার অভিযোগ এনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মাচাদো। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোও এ অভিযোগে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে কারাকাসের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে সরিয়ে মাচাদোকে প্রেসিডেন্ট পদে বসাতে চায়।
গত মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক উইলিয়াম সাব বলেন, মাচাদোর বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র, ঘৃণা ছড়ানো ও সন্ত্রাস’-সহ একাধিক ফৌজদারি তদন্ত চলছে। দেশ ছাড়লে তাকে ‘পলাতক’ বিবেচনা করা হবে।
নোবেল ইনস্টিটিউটের পরিচালক হার্পভাইকেন বলেন, শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে; বিজেতাকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না দিলে তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিধিত্ব করেন।
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনেডিক্ট বুল মনে করেন, দেশে ফিরলে মাচাদোর গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকলেও তাকে আটক করা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত হবে। দীর্ঘ নির্বাসনে তার রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি সমাদৃত, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে সমালোচনাও রয়েছে। উল্লেখ্য, নিজের নোবেল পুরস্কারটি তিনি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি