আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ট্যাক্স–সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা এ বছর কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। গত বছরের তুলনায় ট্যাক্স মামলার সংখ্যা কমেছে ২৭ শতাংশেরও বেশি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক জনবলছাঁটাই ও আইন প্রয়োগের অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ফলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রশাসন এ বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস করে বিপুলসংখ্যক অ্যাটর্নি বিদায় করেছে এবং বিচার বিভাগকে ব্যাপকভাবে অভিবাসন–কেন্দ্রিক মামলায় মনোযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ট্যাক্স আইন প্রয়োগ কার্যত ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
সরকারি নথি ও কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, আইআরএস-এর (Internal Revenue Service) অপরাধ তদন্ত ইউনিটে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। অবশিষ্ট অনেক এজেন্টকে কর-সংক্রান্ত কাজ ফেলে অভিবাসন মামলা বা ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যৌথ টহলে পাঠানো হচ্ছে। একই সময়ে বিচার বিভাগ তার ঐতিহাসিক ট্যাক্স ডিভিশন বন্ধ করে দিলে সেখানে কর্মরত অন্তত এক-তৃতীয়াংশ আইনজীবী পদত্যাগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতিবছর প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার কম কর সংগ্রহ করে বলে অনুমান করা হয়। যদিও ফৌজদারি মামলা সেই ঘাটতির অল্প অংশই পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবুও জেল বা বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকি কর ফাঁকির বিরুদ্ধে সরকারের প্রধান প্রতিরোধমূলক অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থায় দুর্বলতা সৃষ্টি হলে কর ফাঁকির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
এনওয়াইইউর ট্যাক্স ল অ্যান্ড সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ডেভিড হাববার্ট বলেন, “সব ধরনের করদাতার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত কমে গেলে তা কর ফাঁকির প্রতি সরকারের উদাসীনতার ইঙ্গিত দেবে এবং সৎ করদাতাদের প্রতি অবিচার হবে।”
মামলা কমার পরিসংখ্যান
রয়টার্স ফেডারেল আদালতের নথির বিশ্লেষণে দেখতে পেয়েছে, গত বছর যেখানে প্রায় ৪২০ জন সরকারি আইনজীবী ট্যাক্স মামলায় হাজির হয়েছিলেন, এ বছর সংখ্যা কমে প্রায় ১৬০-তে নেমেছে। জানুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ২৫১ জনকে ট্যাক্স–সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে—পূর্ব বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম।
বিচার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে চলতি বছর স্পষ্ট করে জানানো হয় যে ট্যাক্স তদন্ত এখন অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। তারা মনে করেন, নতুন নেতৃত্ব ‘হোয়াইট–কলার’ অপরাধ মোকাবিলাকে গুরুত্ব দিতে অনাগ্রহী।
জনবল সংকট
ট্যাক্স মামলার ঘাটতি পূরণের মতো অভিজ্ঞ প্রসিকিউটরও আর নেই। বিচার বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, এ বছর মার্কিন অ্যাটর্নিদের কার্যালয় থেকে ১,০০০-এর বেশি আইনজীবী পদত্যাগ করেছেন—যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। অনেক দক্ষ কর–মামলা বিশেষজ্ঞের জায়গা এখন শূন্য।
আইআরএস কর্মী সংকট ও দায়িত্ব পরিবর্তন
জাতীয় ট্যাক্সপেয়ার অ্যাডভোকেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরএস-এর অপরাধ তদন্ত শাখায় জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে অন্তত ১০ শতাংশ কর্মী কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীসংখ্যাও বছরের প্রথম ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
ওয়াশিংটনে আইআরএস-এর প্রায় ২০ জন এজেন্টকে স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল বাহিনীর সঙ্গে যৌথ টহলে পাঠানো হয়েছে—যা কর–সংক্রান্ত কাজকে আরও ব্যাহত করেছে।
অভিযোগ প্রত্যাহারের নজির
ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগকারী রজার ভেরের বিরুদ্ধে শত মিলিয়ন ডলার কর ফাঁকির অভিযোগে চলা তদন্তও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ট্রাম্প–ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের লবিংয়ের পর তিনি অপরাধ স্বীকার না করেই প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের শর্তে একটি ‘ডিফার্ড প্রসিকিউশন’ চুক্তিতে উপনীত হন।
বিচার বিভাগের দাবি
বিচার বিভাগের মুখপাত্র ন্যাটালি বলদাসারে বলেন, ট্যাক্স ডিভিশন বন্ধ হলেও কর আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নষ্ট হবে না। তবে আইআরএস এ বছর ৩৩০ জন কর্মী কমার কথা স্বীকার করেছে। -রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি