রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রার্থীদের নিরাপত্তায় আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, “ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে। ওসমান হাদীর উপর গুলির ঘটনায় একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
হাদীর ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ক্রাইম টার্গেট খুঁজছি। ২৪ ঘণ্টা পার হয়নি। আশা করি শীঘ্রই শনাক্ত করতে পারব। জনগণের সহযোগিতাও চেয়েছি।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট সড়কে হাদীর ওপর গুলি চালানো হয়। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, হাদী ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাচ্ছিলেন, তখন মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সূত্রের খবর ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, যিনি গুলি ছুড়েছেন তিনি হাদীর সঙ্গে সকাল থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।
এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও নাগরিক সমাজ একযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছে, হামলাটি শুধু একজন প্রার্থীকে লক্ষ্য করে হয়নি, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ও নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা