স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেছেন, জুলাই সনদের যদি আধা প্রশ্নে আপত্তি থাকে, তাহলে সেটি স্পষ্ট করে বলা দরকার- এতে দেশের কী ক্ষতি হবে, আর না মানলে কী সমস্যা হবে। কেবল দলীয় অহংকার বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা ঠিক হবে না। জনগণ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার পথে আসতে হবে।
শনিবার (৯ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণভোট: বৈধতার ভিত্তি জনগণ না সংবিধান?’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ।
এসময় আলোচকরা গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে তা গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেন। তারা জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার ও জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী গীতিকবি ও রাষ্ট্রচিন্তক শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, গণভোটের রায়কে একদিকে স্বীকৃতি দিয়ে অন্যদিকে বিচারাধীন রেখে রাষ্ট্র নিজের বৈধতার ভিত্তিকেই অস্বীকার করে। এই দ্বৈততা ও নৈতিক পলায়নপরতা রাষ্ট্রকে গভীর বৈধতার সংকটে নিমজ্জিত করছে।
সভায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো বহু সময় জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এসেছে, যা সাংবিধানিক কাঠামোকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধান ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরেন।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শরীফ ভুঁইয়া বলেন, জাতীয় ঐকমত্যে অস্পষ্টতা থাকলেও সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হতে পারে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে। তাঁর মতে, আদালতের দায়িত্ব সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। ফলে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আদালত বাতিলও করে দিতে পারেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ গণপরিষদ।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, গণভোট হলো জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট। জনগণের ইচ্ছাকে আইনি কাঠামোয় রূপান্তর করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। এটি পুনর্বিবেচনা বা স্থগিত করা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীত হবে। তিনি বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা দেখেছে, সেটিই গণভোটে প্রতিফলিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, এটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
আলোচনা সভায় কবি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। তার ভাষায়, আমাদের দেশে দুইতৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট নিয়ে যারাই ক্ষমতায় এসেছেন, কারও শেষ পরিণতি ভালো ছিল না।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির সমালোচনা করে সোহরাব হাসান বলেন, স্বাধীনতার পর ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকে যেভাবে অনেকে গোলামির চুক্তি’ বলেছিলেন, এবারের বাংলাদেশমার্কিন চুক্তি তার চেয়েও বেশি অধীনতামূলক। তবে এ নিয়ে সরকার, বিরোধী দল কিংবা এনসিপি কেউ কথা বলছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূমের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, বাংলাদেশ প্রবাসীকল্যাণ ফাউন্ডেশনের কামরুল হাসান চৌধুরী, রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনীতিবিদ মঞ্জুর কাদির, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংগঠক মাহবুবুল আলম চৌধুরী ও মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ। সভা সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব