তিনি বলেন, নির্বাচনে পেশিশক্তি ব্যবহারের দিন শেষ। কেউ কাউকে হুমকি দেবেন না। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, পেশিশক্তিমুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের চরিত্র সংশোধনের প্রয়োজন। বহির্বিশ্বে নির্বাচনের বক্স থাকে বাইরে, সঙ্গে থাকে ব্যালট পেপার—যার যে প্রতীকে ইচ্ছা, সে ভোট দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে ভোটের সময় হলেই অমুক ভাই, তমুক ভাই—এটা চলতে পারবে না।
তিনি বলেন, আপনি আইনের পথে চললে একদম স্যালুট। আমি ডিসি হয়ে মৃত্যুবরণ করব না—আমার আজীবন সেটা প্রয়োজন নেই। আগে আমার প্রয়োজন হয়নি। আল্লাহ আমাকে আমানতকারী হিসেবে ডিসি বানিয়ে চাঁদপুরে পাঠিয়েছেন। সামনে একটি পবিত্র কাজ আছে—জাতীয় নির্বাচন।
তিনি বলেন, পুরো চাঁদপুরে শুধু হাজীগঞ্জ থেকেই পাঁচটি ফোন পেয়েছি। কেন আমাকে নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে ফোন করতে হবে? রাজনৈতিক নেতারা স্ব স্ব উদ্যোগে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন।
তিনি আরও বলেন, মাইন্ড ইট, আগে কী হয়েছে ভুলে যান। অনেকে মনে করছেন নির্বাচন হবে না। নির্বাচন তো হচ্ছেই। নির্বাচন করার জন্য সরকার আমাদের প্রেরণ করেছে। কোনো হুমকি-ধমকি কাজে আসবে না। যদি কেউ বাড়াবাড়ি করেন, একেবারে জায়গামতো পৌঁছে দেব।
তিনি বলেন, যখন থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে, তখন থেকেই মন দিয়ে প্রচারণা করবেন। তবে তার আগে সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, রাজনৈতিক কালচার আগে যা ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনারা ভাইয়ে-ভাইয়ে নির্বাচন করবেন। এখানে আবার ঝগড়া-ঝাটি কেন? এটা তো আচরণ হলো না। সেই দিন ভুলে যান—নির্বাচন হবে নির্বাচনের মতো।
তিনি বলেন, ওয়াজের মঞ্চে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য চলবে না। কেউ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে পেশিশক্তি দিয়ে নয়, দরদ দিয়ে। উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন হবে—এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন।
হাজীগঞ্জের যানজট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁদপুর জেলার রাজধানী হাজীগঞ্জ। কিন্তু হাজীগঞ্জ বাজারে এত যানজট কেন হবে? হাজীগঞ্জ বাজার তো হকারমুক্ত হয়েছিল। ডিসি বদলি হয়েছে? ডিসি আসছে-যাচ্ছে—ডিসি কোনো বিষয় নয়। চেয়ারকে সম্মান জানাতে হবে। হাজীগঞ্জ বাজারের ফুটপাতে কোনো হকার বসতে পারবে না—এটাই সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, দোকানের বাইরে কোনো মালামাল রাখা যাবে না। বাইরে মালামাল থাকলে জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হোক, তবুও হাজীগঞ্জ বাজারে যানজট দেখতে চাই না। রাস্তায় করা ড্রেনের ওপরও কেউ বসতে পারবে না।
তিনি বলেন, হাজীগঞ্জে অনেক বহুতল ভবন হয়েছে। বিল্ডিং কোড আইন মেনে এসব ভবন করা হয়েছে কি না জানি না। তবে সব ভবন বিল্ডিং কোড মেনে করতে হবে।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুত ডাম্পিং সিস্টেম চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
এতে সভাপতিত্ব করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন