রিপোর্টার্স ২৪ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং 'ইনকিলাব মঞ্চ'-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর, ২০২৫) বাংলাদেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। আজ সারাদিন তাঁর শেষ বিদায় ও জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও কঠোর নিরাপত্তা।
সকাল ৯:৩০ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া: ওসমান হাদির মরদেহ রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার সময় হাসপাতালের সামনে আনসার, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।
সকাল থেকে দুপুর : রাষ্ট্রীয় শোক ও পতাকা অর্ধনমিত: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়।
দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
দুপুর ২:৩০ - জানাজায় জনসমুদ্র: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির বিশাল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যা এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জানাজার আগে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয় যেন হাদি হত্যার বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়।
বিকাল ৪:০০ - শেষ বিদায়ের জন্য ঢাবি যাত্রা: জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায়। এসময় পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ ও ঢাবি এলাকা শোকার্ত মানুষের মিছিলে ভরে যায়।
বিকাল ৫:৩০ দাফন সম্পন্ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে) তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও অশ্রুসিক্ত নয়নে শায়িত করা হয়।
তদন্তের আপডেট: পুলিশ হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী, শ্যালক এবং এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের নতুন রিমান্ডে নিয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ছিল এবং বেশ কিছু প্রধান সড়ক ডাইভার্ট করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ওসমান হাদির মৃত্যুতে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি