গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর এক নেতাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইটভাটার ম্যানেজার ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের এবিএম ইটভাটায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের নাম ফরিদ সরকার (৩৫)। তিনি পার্শ্ববর্তী নারায়নপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে এবং গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের বাবা জামাল সরকার জানান, মঙ্গলবার রাতে ফরিদ বাড়িতে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় একটি ফোন কল এলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে ভোররাতে সবুজ মেম্বার ফোন করে জানান, ফরিদ নাকি দুর্ঘটনায় পড়েছে। এরপর তারা এবিএম ইটভাটা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে দেখা যায়, তার ডান হাতের কব্জি কাটা এবং মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা ফরিদা ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, রাতে ফোন করে কে বা কারা তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেই বিরোধের জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার নাতিটাকে এতিম করে দিলো। আমার ছেলের কী দোষ ছিল? আমি এই হত্যার কঠিন বিচার চাই।
নিহতের ফুফাতো ভাই মাসুদ রানা জানান, ফরিদ দীর্ঘ ১৫–১৬ বছর জর্ডানে ছিলেন এবং চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরেন। তিনি জাসাসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মাটি ও বালির ব্যবসা করতেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছাড়া তার অন্য কোনো শত্রু ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে ফরিদ কয়েকজনের নাম বলেছিলেন বলে তারা শুনেছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের হাত ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম