রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর সদরঘাটে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় বস্ত্র ও পাট এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সব ধরনের পরিবহনের মধ্যে নদীপথ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, তিনি নিজেও নিয়মিত নদীপথে যাতায়াত করেন এবং লক্ষ্য করেছেন অনেক সময় রাতে লঞ্চ চলাচলের সময় প্রয়োজনীয় লাইট ব্যবহার করা হয় না, যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই লঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে কয়েকটি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না। রাতে কোথাও অবস্থান করলে অবশ্যই লাইট জ্বালিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া এ মৌসুমে সকাল ৮টার আগে কোনো বাল্কহেড চলাচল করতে পারবে না। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নৌ উপদেষ্টা বলেন, ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তবে যেভাবে দুটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চালকের গাফিলতি থাকতে পারে। হয়তো চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বা অনভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে লঞ্চ চালানো হচ্ছিল। তবে তদন্ত ছাড়া চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাবে না।
ভবিষ্যতে কোনো লঞ্চচালক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে, রাতে লাইট ব্যবহার না করলে বা নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় ‘এডভেঞ্চার-৯’ ও ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামের দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- আ. গনি (৩৮), মো. সাজু (৪৫), মো. হানিফ (৬০) ও মোসা. রিনা (৩৫)। তারা সবাই ভোলা জেলার বাসিন্দা।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা