রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঢাকার ধানমন্ডির সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে ২৬ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় শিল্পী জিসান হকের একক প্রদর্শনী ‘ইনভাইটেশন টু লাইফ’। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বার্ক্ আলভি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রধান নকশাকার শিল্পী আবদুল মান্নান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. রশিদ আমিন এবং শিল্পীর পরিবার।
শৈশবে বাবার কাছ থেকে আঁকাপড়া শিখে ১৯৭৯ সালে দেশ ছাড়েন জিসান। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের পাশাপাশি সেখানকার শিল্পচর্চা চালিয়ে গেছেন। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে তার প্রথম একক প্রদর্শনী হয়। নিউইয়র্ক ও টরোন্টোতেও একক প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশে এটি তার তৃতীয় একক প্রদর্শনী।
উদ্বোধনীতে রশিদ আমিন বলেন, “জিসান সরাসরি কানাডার শিল্পধারাকে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন। ডিজিটাল পেইন্টিংকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চলছে, সেই চেষ্টায় তাকে স্বাগতম।”
সৈয়দ আবুল বার্ক্ আলভি মন্তব্য করেন, “মাধ্যম নয়, শিল্পীর সৃষ্টিই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মাধ্যমে কাজ করার জন্য জিসানকে অভিনন্দন।”
আবদুল মান্নান বলেন, “ডিজিটাল পেইন্টিং বাংলাদেশে এখনও নতুন, জিসানের কাজ দেখলে বোঝা যায়, তিনি শিল্পে সিদ্ধহস্ত।”
প্রদর্শনীতে ডেলিকেট এলিগ্যান্স, ক্রিয়েশন উইদাউট ক্যাওস, রিফ্লেকশন অব লংগিং, এটারনাল ইকোস ইন ফ্রাগমেন্টেড লাইট শিরোনামের ডিজিটাল চিত্রকর্মগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। শিল্পী একবার প্রিন্ট তৈরি করার পর মূল ফাইল মুছে দেন, যাতে শুধুমাত্র সংগ্রাহকের কাছে কপি থাকে।
জিসান হক বলেন, “নিজের পরিবারের সঙ্গে মাতৃভূমিতে প্রথম প্রদর্শনী করতে পেরে আমি গর্বিত।” তিনি অনুষ্ঠানে কানাডীয় স্বামী রিচার্ড পিজন এবং সন্তানদের পরিচয় করান।
প্রদর্শনীতে ২২টি ডিজিটাল চিত্রকর্ম দেখা যাবে। এটি চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত, প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন খ্যাতিমান চিত্রকর মনিরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উন্নয়নকর্মী নাশমিন নাহিদ।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা