| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন আজ

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ইং | ১৬:০২:২৫:অপরাহ্ন  |  95094 বার পঠিত
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন আজ
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী ও আধুনিক বাংলাদেশের চারুকলা শিক্ষার পথিকৃৎ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন আজ (২৯ ডিসেম্বর)। চিত্রশিল্প ও শিল্পশিক্ষা প্রসারে আমৃত্যু অবদানের জন্য তিনি ‘শিল্পাচার্য’ অভিধায় ভূষিত হন।

১৯১৪ সালের এই দিনে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার কেন্দুয়ায় (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা) জয়নুল আবেদিনের জন্ম। তার বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা (সাব-ইন্সপেক্টর) এবং মা জয়নাবুন্নেছা গৃহিণী। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ।

শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। পাখি, মাছ, গরু-ছাগল, ফুল-ফল এঁকে ছোটবেলায়ই তিনি পরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মাত্র ষোল বছর বয়সে গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার আগ্রহে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় যান। এরপর সাধারণ পড়াশোনায় মন না বসায় ১৯৩৩ সালে স্কুলের পড়ালেখা বাদ দিয়ে মায়ের সমর্থনে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে ভর্তি হন। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মা নিজের গলার হার বিক্রি করে তাকে ভর্তি করান; এই ঘটনা শিল্পাচার্যের জীবনসংগ্রামের একটি স্মরণীয় অধ্যায়।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৩৮ সালে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ভারত বিভক্তির পর পূর্ব পাকিস্তানে চিত্রকলা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হয়। জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগেই ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে একটি জীর্ণ কক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয় গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউট। শুরুতে মাত্র ১৮ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা করা এই প্রতিষ্ঠানই পরবর্তীকালে বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে রূপ নেয়। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষচিত্রমালার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘নৌকা’, ‘সংগ্রাম’, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘ম্যাডোনা’, ‘সাঁওতাল রমণী’, ‘ঝড়’, ‘কাক’ ও ‘বিদ্রোহী’। ১৯৬৯ সালে অঙ্কিত ৬৫ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল চিত্র ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭৪ সালে আঁকা ‘মনপুরা-৭০’ তার শিল্পজীবনের অনন্য নিদর্শন।

তার শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিল্পশিক্ষা বিস্তারে অবদান ছিল অসামান্য। অনুমান করা হয়, তার চিত্রকর্মের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত তার শিল্পকর্মের সংখ্যা ৮০৭। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ৫০০ চিত্রকর্ম। এছাড়া ময়মনসিংহের জয়নুল সংগ্রহশালা ও পরিবারের কাছেও বিপুল সংখ্যক শিল্পকর্ম সংরক্ষিত আছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জাহানারা আবেদিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাদের তিন সন্তান; মৈনুল আবেদিন, খায়রুল আবেদিন ও সারোয়ার আবেদিন।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৫৮ সালে হেলাল-ই-ইমতিয়াজ ও প্রাইড অব পারফরম্যান্স, ১৯৭৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক এবং স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা ইউনিয়ন বুধ গ্রহের একটি জ্বালামুখের নামকরণ করে ‘আবেদিন জ্বালামুখ’।

১৯৭৬ সালের ২৮ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, প্রদর্শনী ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪