| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গৃহবধূ থেকে উদ্যোক্তা অভয়নগরের খাদিজা খানম

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ইং | ১৬:২৩:৫৩:অপরাহ্ন  |  118455 বার পঠিত
গৃহবধূ থেকে উদ্যোক্তা অভয়নগরের খাদিজা খানম

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার খাদিজা খানম এখন সফল একজন নারী উদ্যোক্তা। তাকে দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক নারী। সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ চেষ্টায় গড়ে তুলেছেন হোম মেড কেক বিক্রি ও কেক তৈরির সামগ্রী বিক্রির একটি দোকান, সাথে নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে হোম মেড কেক তৈরির প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।

জানা যায়, খাদিজার ব্যবসার সুনাম রয়েছে উপজেলা ব্যাপী। সংসারের কাজের ফাঁকে নিজ প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন "বিসমিল্লাহ বেকিং কর্নার" নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান ও হোম মেড কেক বিক্রি করে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন স্বাবলম্বী নারী হিসেবে। কিন্তু তার এই ব্যবসা শুরুর পথ মসৃণ ছিল না। স্বল্প পুঁজি, সামাজিক বাধা, ব্যবসায়িক অনভিজ্ঞতাকে প্রচন্ড মানসিক শক্তি ও পরিশ্রম দিয়ে জয় করতে হয়েছে তাকে।

খুলনা বি.এল. কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করা খাদিজার স্বামী মাহবুবুর রহমান বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে নওয়াপাড়া মডেল স্কুল রোডে অবস্থিত খাদিজার প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ বেকিং কর্নারে গিয়ে দেখা যায় কেক তৈরির সামগ্রী বিক্রি করছেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, একসময় পড়াশোনা ও সংসারের দায়িত্ব পালন করে চাকরি করার সুযোগ কম ছিল। সেই জন্য নিজ উদ্যোগে আমি কেক বানানো শিখি। প্রথমে স্বল্প পরিসরে শুরু করেছিলাম। তারপর পারিবারিকভাবে আলোচনা করে স্বামীর উৎসাহে হোম মেড কেকের ব্যবসা শুরু করি। এখন কেক তৈরির পাশাপাশি এই উপজেলায় অন্যান্য মহিলা উদ্যোক্তাদের কাছে বেকিং সামগ্রী সহজলভ্য করার জন্য এই দোকানটি দিয়েছি। পাশাপাশি নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের কেক তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে খাদিজা বলেন, কেক সাধারণত শিশু-কিশোররা মজা করে খেতে পছন্দ করে। সেই দিকটা বিবেচনা করে তিনি কেক তৈরি করেন। কেকের মূল উপাদান ক্রিম, রঙ ও চকলেট যাতে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ না হয়, সে জন্য উন্নত মানের উপাদান ব্যবহার করে থাকি এবং আমার দোকানেও উন্নত মানের কেক তৈরির সামগ্রী বিক্রি করি।

তিনি আরও বলেন, স্বামীর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে পরিবারে অবদান রাখতে পেরে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। নিজের ও পরিবারের অনেক ইচ্ছে নিজেই পূরণ করতে পারি। ইচ্ছে আছে ব্যবসার পরিসর আরও বড় করার। সে জন্য সরকারি সহায়তা পেলে আমার জন্য সহজ হতো।

তার দোকানে বেকিং সামগ্রী কিনতে আসা অন্য এক নারী উদ্যোক্তা লিলি বলেন, এমন উপজেলা শহরে নারীদের দোকান পরিচালনা করা খুব একটা সহজ নয়। তিনি সাহস করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন, সেটা আমাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

অভয়নগর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রাজ কুমার পাল বলেন, সামাজিক অনেক বাধাবিপত্তি জয় করে খাদিজা নারী উদ্যোক্তা হয়েছেন। অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এখন তিনি অন্যান্য নারীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সমাজে এমন উদ্যোক্তা আরও গড়ে উঠুক এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে আমরা সচেষ্ট আছি।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪