স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের আগুনঝরা রাজনৈতিক ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুদে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে গেছেন। তার জীবন যেন শোক, কষ্ট, ষড়যন্ত্র ভরা এক বিস্তীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।
দৃঢ়তা আর অটল সাহসের আশ্রয় এবং রাজনীতির ‘আপসহীন’ নেত্রী খালেদা জিয়ার গত পাঁচ বছরের জীবনের এক বড় অংশই কেটেছে হাসপাতালের নির্জন শয্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিকিৎসকদের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে তিনি মোট ৪৮৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেগম জিয়াকে কমপক্ষে আটবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
২০১৮ সালে কারাবন্দি হবার পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে একাধিকবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ২৫ মাস কারাভোগের পর, করোনা মহামারির মধ্যে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়া বাসায় ফেরেন।
২০২২ সালে মুক্ত অবস্থায়ও তার শারীরিক অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাকে।
জীবনের শেষ দুই বছরে কিডনি জটিলতা ও বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে তাঁর হাসপাতালে অবস্থান আরও দীর্ঘ হয়। সব মিলিয়ে গত ৫ বছরে তাঁর ৪৮৪ দিন হাসপাতালে থাকা অনেকটা দেড় বছরের সমান।
উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি লন্ডনে যান। সেখানে ‘দি লন্ডন ক্লিনিক’-এ ১৭ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা চালিয়ে যান। দীর্ঘ চার মাস পর মে মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব