| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

২০২৫: মৃত্যু, রায় ও রাজনীতির টালমাটাল এক বছর

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ ইং | ২২:০০:৫২:অপরাহ্ন  |  106130 বার পঠিত
২০২৫: মৃত্যু, রায় ও রাজনীতির টালমাটাল এক বছর
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ২০২৫ সাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও ঘটনাবহুল বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী বাস্তবতা, ক্ষমতার পালাবদল, বড় রাজনৈতিক রায়, সহিংসতা ও জাতীয় শোক সব মিলিয়ে বছরজুড়েই রাজনীতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যু

বছর শেষ হওয়ার একদিন আগে, ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন কিডনি, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমান মায়ের শেষ সময়ে পাশে থাকেন—যা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ছয় মাস পর ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়। শেখ হাসিনার ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার এই ঘটনা দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।


এনসিপির আত্মপ্রকাশ

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’ ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে। নাহিদ ইসলাম দলের আহ্বায়ক হন। ছাত্র রাজনীতি থেকে সরাসরি মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশের এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ইউনূস–তারেক বৈঠক

১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক রাজনীতিতে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বৈঠকের পরই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানানো হয়।

গোপালগঞ্জে সহিংসতা

এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাটি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে সরকার ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করে, যেখানে আন্দোলনে নিহতদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কার ও গণভোট ইস্যুতে।

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনা

২১ জুলাই ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। বছরটির সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোক নেমে আসে।

অক্টোবরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আমদানি পণ্য পুড়ে যায় বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন। নাশকতার আশঙ্কাও উঠে আসে আলোচনায়।

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেন। অনুপস্থিতিতে বিচার ও রায় আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার উদ্বেগ তৈরি করে।

নির্বাচন তফসিল

১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—যার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড

নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে মারা যান সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যু ঘিরে ঢাকায় বিক্ষোভ, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা এবং গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

ময়মনসিংহে দিপু দাস হত্যা

২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে এসে ময়মনসিংহে যুবক দিপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। এক তরুণের প্রাণহানির এই ঘটনা শুধু একটি খুনের খবরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারহীনতা,সাম্প্রদায়িকতা ও তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিপু দাস ছিলেন একজন সাধারণ যুবক। কোনো বড় রাজনৈতিক পরিচয় বা অপরাধমূলক অতীত না থাকা সত্ত্বেও যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়, তা জনমনে গভীর ক্ষোভ তৈরি করে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরা

২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। বিপুল জনসমাগমে দেওয়া ভাষণে তিনি শান্তি ও সংযমের আহ্বান জানান, যা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হয়।

মব ভায়োলেন্স ও সংখ্যালঘু নির্যাতন

সারা বছর ধরেই মব সহিংসতা, ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়ায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ১০ মাসে গণপিটুনিতে অন্তত ১৪০ জন নিহত হন।

এসব ঘটনার পাশাপাশি বছরের নানা সময়ে দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মব ভায়োলেন্স এবং ধর্ষণের বেশ কিছু ঘটনা আলোচনায় উঠে এসেছে।

এর মধ্যে মাগুরায় বোনের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশুর মৃত্যু, কুমিল্লায় এক নারীর শ্লীলতাহানির ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া এবং ময়মনসিংহে এক বাউলকে হেনস্তার ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।


মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ১০ মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ২৫৬টি ঘটনায় কমপক্ষে ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিলো, ২০২৪ সালের ৪ঠা অগাস্টের পর থেকে পরবর্তী ৫ মাসেই সারাদেশের ৪০টি মাজারে (মাজার/সুফি কবরস্থান, দরগা) ৪৪ বার হামলা চালানোর অভিযোগ পেয়েছিলো পুলিশ।

এসব হামলায় মাজার বা দরগায় ভাঙচুর, মাজারের সম্পত্তি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিলো, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর (মাজার ও দরগাহ) নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠকরা।  সূত্র:বিভিন্ন পত্রিকা,ছবি:বিবিসি

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪