রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের বাণিজ্য ও শিল্পখাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হচ্ছে আজ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) বসছে এবারের মেলা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এই মেলার জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করায় মেলার উদ্বোধন পিছিয়ে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর বছরের প্রথম দিন থেকেই নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হয়ে আসছে। ২০২২ সাল থেকে রাজধানীর বাইরে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারকে মেলার স্থায়ী ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বছর পূর্বাচলে পঞ্চমবারের মতো বসছে এই বাণিজ্য মেলা।
এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর ও নেপালসহ নানা দেশের পণ্য প্রদর্শিত হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে দেশের পণ্য প্রদর্শনী ও বিপণনের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইপিবির মেলা ও প্রদর্শনী বিভাগের পরিচালক (উপসচিব) ওয়ারিশ হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, মেলার সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জাতীয় শোক পালনের কারণে উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। শনিবার সকালে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা নিজে উদ্বোধন করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ী এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করছে।
দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে চলাচল করবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম