| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১৪, নিখোঁজ ৪

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ ইং | ১৩:২২:৩৩:অপরাহ্ন  |  45422 বার পঠিত
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১৪, নিখোঁজ ৪

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। সিয়াউ দ্বীপে সংঘটিত আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোররাতে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণের ফলে হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই জনবসতিপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ১৬ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধার দল মাঠে কাজ করছে।

উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র নুরিয়াদিন গুমেলেং জানান, বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্গত এলাকায় প্রধান সড়কগুলো কাদা, ভাঙা গাছ ও বড় বড় পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তা পরিষ্কারের কাজে একাধিক ভারী এক্সকেভেটর মোতায়েন করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বন্যার কারণে ঘরবাড়ি হারানো অন্তত ৪৪৪ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করে স্থানীয় স্কুল ও গির্জাগুলোতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অনেক পরিবার রাতারাতি সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

উত্তর সুলাওয়েসির গভর্নর ইউলিউস সেলভানাস জানিয়েছেন, এই দুর্যোগে কয়েকশ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক সরকারি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

এদিকে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সুলাওয়েসির পাশাপাশি জাভা, মালুকু ও পাপুয়া দ্বীপপুঞ্জেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত নভেম্বর মাসেও ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী বন্যা ও ভূমিধসে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, অনিয়ন্ত্রিত খনিজ উত্তোলন ও ব্যাপক বন উজাড়ের ফলে দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস ইন্দোনেশিয়ার এই অঞ্চলে বর্ষার চূড়ান্ত সময় হিসেবে পরিচিত, যখন বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪