স্টাফ রিপোর্টার: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিওবার্তা ও সর্বশেষ অবস্থানের প্রশ্নে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা(ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ফয়সালের ভিডিওর ফরেনসিক করা হয়েছে। ভিডিওটি সঠিক, কিন্তু তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিও বার্তাটি সঠিক, তবে অবস্থান দুবাই নয়। আমরা তদন্তে পেয়েছি সে ভারত আছে।
ভারতে আরও কয়েকজন আটক হওয়ার বিষয়টি ভারতীয় পুলিশ অস্বীকার করেছে এমন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তারা সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা শেষে এ তথ্য জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীর পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও এদের সহযোগী সংগঠনের পরিকল্পনায় ন্যক্কারজনক এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তদন্তে জানা যায়, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা মূলক জোরালো বক্তব্য রেখে আসছিলেন। যার ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
ডিবি প্রধান বলেন, শহীদ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলো। ফয়সাল করিম এবং তার প্রধান সহযোগী মো. আলমগীর হোসেনকে পলায়নের বিষয়ে সার্বিক সহায়তাকারী তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। আসামীদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভিক্টিমের পূর্ববর্তী বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত বক্তব্য থেকে এটা পরিস্কার যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড।
তিনি আরও বলেন, হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল, ফয়সালের বোন জেসমিন, আলমগীর ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছে। অধিকতর তদন্তে আরও যদি কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়েই গুলি করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অস্ত্রের ফরেনসিক করেছিলাম। এই অস্ত্র ব্যবহার করেই তারা হাদিকে গুলি করে হত্যা করেছিল।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব