রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
শরীয়তপুরে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস, ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দীপুচন্দ্র দাস এবং যশোরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ন্যাপ নেতারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একের পর এক নির্মমভাবে হত্যা করার মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠী বাংলাদেশে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে। প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পরপরই দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা, খোকন দাসকে গায়ে আগুন দিয়ে খুন এবং রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব ঘটনাকে তারা রহস্যজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে আতঙ্কিত করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, খোকন দাস ও অমৃত মণ্ডলের হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নরসিংদীর পলাশে মনি চক্রবর্তী নামে এক মুদি দোকানিকে হত্যা, হবিগঞ্জে পুকুর থেকে কামদেব দাসের মরদেহ উদ্ধার এবং যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে। সুযোগসন্ধানী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ ন্যাপের নেতারা বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের ধারাবাহিক সহিংসতা নারী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণের মধ্যে গভীর ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এর ফলে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার কারণে দেশবাসীর মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে যে সরকার স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ দীপু দাস, খোকন চন্দ্র দাস, অমৃত মণ্ডল, মনি চক্রবর্তী, কামদেব দাস ও রানা প্রতাপ বৈরাগীসহ সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম