| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নোয়াখালীতে তীব্র শীতে এক মাসে ১৮ শিশুর মৃত্যু

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ ইং | ১৭:৩২:০৬:অপরাহ্ন  |  49021 বার পঠিত
নোয়াখালীতে তীব্র শীতে  এক মাসে ১৮ শিশুর মৃত্যু
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীতে তীব্র শীতের প্রভাবে হাসপাতালগুলোতে শিশুরোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গেল ডিসেম্বর মাসে জেলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিতসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৮৭ শিশু ভর্তি হয়, যাদের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিন নোয়াখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই অসংখ্য শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে ৪ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ৫৩২ জন ভর্তি হয়ে মারা যায় ১৩ জন এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৫৫ জন ভর্তি হয়ে মারা যায় ৫ জন শিশু।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া শিশুদের বেশিরভাগই ঠান্ডাজনিত ও সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত ছিল। এর আগে নভেম্বরে ১ হাজার ৪৭৫ শিশু ভর্তি হয়ে মারা যায় ১৬ জন, আর অক্টোবরে ১ হাজার ৩৭৬ শিশু ভর্তি হয়ে ২৩ জন শিশু মারা যায়। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

সরেজমিনে হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশু মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে আসা আলা উদ্দিন শিহাব নামের এক শিশুর মা বিবি খাদিজা বলেন,তিন দিন আগে বাচ্চাকে ভর্তি করেছি। এখন চিকিৎসা চলছে, কিন্তু শয্যা পাওয়া খুব কষ্ট।

মো. মামুন নামের এক শিশুর মা সুফিয়া আক্তার বলেন,ঠান্ডা লাগলেই ছেলেটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক মাসে দুইবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। গরিব মানুষের পক্ষে বারবার চিকিৎসা করানো খুব কষ্টের।’

শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকেয়া বেগম বলেন,শিশু রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত শিশু ওয়ার্ডে নার্সের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

শিশু কনসালট্যান্ট ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সি বলেন,শিশু মৃত্যুর পেছনে শুধু শীত নয়; জন্মকালীন জটিলতা, সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, সেপসিস ও দুর্ঘটনাও দায়ী। শীতকালে শিশুদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে আনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন,নোয়াখালী ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে রোগীরা এখানে আসে। ফলে প্রতিদিন রোগীর চাপ বেশি থাকে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। দ্রুত জনবল বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নোয়াখালীতে কয়েক দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকছে এবং শীত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪