রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে র্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেমঘটিত বিরোধ এবং অপমানজনক মন্তব্যের জের ধরেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি হোটেল কর্মচারী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, নিহত লিলির সঙ্গে অভিযুক্ত মিলনের আগে সুসম্পর্ক ছিল। দুজনের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার কথাবার্তাও হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন লিলি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিলন।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন স্বীকার করেছে। লিলি বিভিন্ন সময় ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার প্রতি প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করত। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে গ্রামে গেলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুরে মিলন আবারও লিলিকে নিয়ে পালানোর প্রস্তাব দেয়।
কিন্তু লিলি স্পষ্টভাবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, একজন রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কোনো রেস্তোরাঁ কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। এ সময় সে মিলনকে উদ্দেশ করে বলে‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’। এই মন্তব্যে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিলন। র্যাবের ভাষ্যমতে, সেই ক্ষোভ থেকেই সে লিলিকে হত্যা করে।
র্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত পরিস্থিতি ও পরিকল্পনার বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসায় লিলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত লিলি (১৭) স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামে। সে সজীব মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় রোববার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লিলিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
নিহতের বড় বোন সোভা শুরু থেকেই মিলনের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের একটি খাবারের হোটেল আছে। বৃহস্পতিবার রাতে মিলন খাবার নিতে বাসায় এসেছিল। এত রাতে আসা নিয়ে লিলির সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। শনিবার দুপুরেও সে আসে, তখন তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।
ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে সোভা বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে আমি জিমে যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলি। ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা, ঘর এলোমেলো। মেঝেতে আমার বোন পড়ে ছিল। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে হিজাব খুলে দেখি তার গলায় রশি পেঁচানো ও গলা কাটা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম