বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের চালান আটক করেছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। চালানটিতে সাদা মাছের সঙ্গে ঘোষণা বহির্ভূত সাড়ে ৩ টন ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে।
মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্যের চালানের সঙ্গে পরীক্ষণ কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য মাছ খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। আমদানিকৃত দুটি ভারতীয় ট্রাক (ডবিøউবি-২৫ ক-৩০২৯ ও ডবিøউবি-১১ ঊ-৫০২৭) থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’—বোয়াল, ফলিও ও বাঘাইর মাছ—উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে ভারতীয় ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। যার ওজন সাড়ে ৩ টন। এর বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।
মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বৈধ পথে ভারতীয় ইলিশ আমদানি করেছে ‘জান্নাত এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। রফতানিকারক ছিল আরজে ইন্টারন্যাশনাল। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বেনাপোল বন্দর থেকে ইলিশের চালান পাচারের চেষ্টা করছিল বহুল আলোচিত শান্তর মালিকানাধীন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘লিংক ইন্টারন্যাশনাল’। উভয় পক্ষের সমন্বয়ে ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক শাহদত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতে প্রথমে বিজিবি মাঠে আসে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশির জন্য। এর কিছু সময় পর আসে কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারপর মাছবাহী ট্রাক খুলে দেখা যায়, সাদা মাছের মধ্যে সাড়ে তিন টন ভারতীয় ইলিশ রয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি এই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শুল্ক ফাঁকির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। চিহ্নিত শুল্কফাঁকিবাজদের মধ্যে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী শান্ত আলোচিত। এসব অনিয়মের সঙ্গে কাস্টমসের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি চালানের বিপরীতে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ জব্দের ঘটনাটি সেই অভিযোগের বাস্তব প্রমাণ। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক তদন্তেও অবৈধ আমদানির পেছনে কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতার অভিযোগ সামনে এসেছে। অপরাধীরা ধরা পড়লেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের লাইসেন্স রক্ষা করে আবারও ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের।
রিপোর্টার্স২৪/ এসএন